Logo

২০২৭ সালের পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে জিয়াউর রহমানের লেখা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৩:৫৫
২০২৭ সালের পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে জিয়াউর রহমানের লেখা
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান | ফাইল ছবি

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ পাঠ্যবইয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধ যুক্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর লেখা ঐতিহাসিক একটি ডায়েরির ছবিও পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) জানিয়েছে, নিবন্ধটিকে নতুন অধ্যায় হিসেবে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসিসি) চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। ২৪ আগস্ট মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এনসিসিসির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বলেন, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ বইয়ে নিবন্ধটি অন্তর্ভুক্তির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, মুক্তিযুদ্ধে যার যতটুকু অবদান, তা নিরপেক্ষভাবে পাঠ্যবইয়ে তুলে ধরার উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিবন্ধটি যুক্ত করা হচ্ছে।

নতুন পাঠে জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক, সাবেক রাষ্ট্রপতি, সেনাপ্রধান, জেড ফোর্সের অধিনায়ক, ১ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার এবং ‘বীর উত্তম’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছে এনসিটিবির কারিকুলাম-সংশ্লিষ্টরা। একই অংশে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে সর্বাত্মক জনযুদ্ধ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও চট্টগ্রাম পর্ব

এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, প্রবন্ধটির শুরুতে একটি ব্যাখ্যামূলক অংশ থাকবে। সেখানে ১৯৭২ সালে প্রকাশিত ‘একটি জাতির জন্ম’ এবং ১৯৮০ সালে প্রকাশিত ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’কে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকথামূলক দলিল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ব্যাখ্যায় আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো একক ব্যক্তি বা দলের কৃতিত্ব নয়। এতে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, এ কে ফজলুল হক, মওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান ও তাজউদ্দীন আহমদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত পাঠে ১৯৭১ সালের মার্চে চট্টগ্রামে সশস্ত্র প্রতিরোধের প্রস্তুতি, পাকিস্তানি বাহিনীর গতিবিধি, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র এবং সম্মুখসমরের অভিজ্ঞতার বর্ণনা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নিবন্ধে জিয়াউর রহমানের ভাষ্যে বলা হয়েছে, সংকটের সময়ে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন এবং ২৬ মার্চ রাতে চট্টগ্রামে প্রতিরোধের সিদ্ধান্ত জানান। সেখানে ‘উই রিভোল্ট’ বলার ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে। এরপর ষোলশহরে ব্যাটালিয়নের সদস্যদের সংগঠিত করে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেওয়ার কথা তিনি বর্ণনা করেছেন।

প্রবন্ধে পটিয়ার পাহাড়ের দিকে যাত্রা, ইপিআরের সদস্যদের সঙ্গে যোগ দেওয়া এবং চট্টগ্রামে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধের বিবরণও রয়েছে।

কালুরঘাটের ঘোষণা

বিজ্ঞাপন

নিবন্ধের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে ২৭ মার্চ কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার স্মৃতিচারণ রয়েছে। তাঁর বর্ণনায়, ওইদিন সন্ধ্যায় রেডিও স্টেশনে গিয়ে একটি খাতার পাতায় ঘোষণার বক্তব্য লেখার কথা বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত হতে যাওয়া বিবরণে ওই ঘোষণার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের কথা প্রচারের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

এ ধরনের ঐতিহাসিক বক্তব্য নিয়ে বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বিতর্ক রয়েছে। নতুন পাঠ্যবইয়ে কোন দলিল বা বর্ণনা কীভাবে উপস্থাপন করা হবে, তা সেই বিতর্কের প্রেক্ষাপটেও গুরুত্ব বহন করছে। বিভিন্ন সময়ে পাঠ্যবইয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ঘোষণাসংক্রান্ত বিষয়বস্তুতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

শিক্ষাবিদ মাহবুব উল্লাহ নিবন্ধটির ঐতিহাসিক মূল্য রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক শাহ শামীম আহমেদও এটিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানার একটি উৎস হিসেবে দেখেছেন। তাঁদের বক্তব্য বাসসের প্রতিবেদনে উদ্ধৃত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক জানিয়েছেন, এনসিসিসির সভায় নিবন্ধটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন পেয়েছে। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD