প্রাথমিক শিক্ষকদের পদোন্নতি-বদলি-বেতনে আসছে নতুন নীতিমালা

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিসংক্রান্ত বিষয়গুলো সুনির্দিষ্ট করতে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
বিজ্ঞাপন
তিনি জানান, শিক্ষকদের জন্য সমন্বিত শিক্ষক নীতিমালা এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রশাসনিক নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। এসব নীতিমালায় পদোন্নতি, বদলি, বেতন-স্কেলসহ চাকরির গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার পিটিআইয়ে ‘জবাবদিহিতা, কার্যকর বিদ্যালয় নেতৃত্ব, দলগত সমন্বয় ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণ’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
ববি হাজ্জাজ বলেন, নতুন নীতিমালার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী করা হবে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার কোনো স্তরকেই জবাবদিহিতার বাইরে রাখা হবে না জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রাথমিক শিক্ষার প্রতিটি পর্যায়ে সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি শক্তিশালী করা গেলে দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার বড় একটি অংশের সমস্যার সমাধান সম্ভব।
বিজ্ঞাপন
শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি দূর করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, শুধু বিদ্যালয়ে শিশুদের উপস্থিতি নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য নয়; বিদ্যালয়ে এসে প্রতিটি শিশু যেন প্রকৃত অর্থে শেখে, সেটিই প্রধান বিষয়।
ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘এখন থেকে প্রাথমিক শিক্ষার হিসাব হবে কতটি ভবন তৈরি হয়েছে তা দিয়ে নয়, কতটি শিশুর শেখা নিশ্চিত হয়েছে তা দিয়ে।’
তিনি আরও বলেন, একটি ভবন একা কোনো প্রজন্ম তৈরি করতে পারে না। দক্ষ শিক্ষক, কার্যকর শ্রেণিকক্ষ এবং জবাবদিহিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থাই একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে।
বিজ্ঞাপন
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আগামী বছর থেকে দেশব্যাপী স্কুল ফিডিং বা মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই কর্মসূচি শুধু শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নয়, বরং সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি শিশুর জন্য বরাদ্দ খাবার যথাযথ মান ও পরিমাণে পৌঁছাচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে নজরদারি থাকবে। কর্মসূচির প্রতিটি পর্যায়ে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তার আশা, এর মাধ্যমে শিশুদের পুষ্টি ও বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ার পাশাপাশি আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠবে।
ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. আজমুল হকের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, পরিচালক (পলিসি ও অপারেশনস) মীর আব্দুল আউয়াল আল মেহেদী, পরিচালক (প্রশিক্ষণ) মাহবুবা আইরিন এবং ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক (প্রাথমিক শিক্ষা) মো. আবদুল আজিজ।
বিজ্ঞাপন
কর্মশালায় ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা অংশ নেন।








