Logo

আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে শিক্ষার মান যাচাই করতে চায় সরকার

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৫:৩৬
আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে শিক্ষার মান যাচাই করতে চায় সরকার
ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে নির্ধারিত শিক্ষণফল অর্জন করছে কি না, তা জাতীয় মূল্যায়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডেও যাচাই করতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান বাস্তব জীবনে প্রয়োগ এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সক্ষমতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মূল্যায়নের দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব জেসমিন নাহার।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, শুধু পড়তে ও লিখতে পারলেই একজন মানুষকে শিক্ষিত বলা যায় না। অর্জিত জ্ঞান বাস্তব জীবনে কাজে লাগানো, অন্যের বক্তব্য বোঝা এবং নিজের কথা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে পারার সক্ষমতাই শিক্ষার প্রকৃত মানদণ্ড।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা ও ‘উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সম্মাননা ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

জেসমিন নাহার বলেন, শিক্ষা মানে শুধু একটি শব্দ লিখতে পারা নয়। একজন ব্যক্তি ছোট ছোট বাক্য তৈরি করতে পারছেন, নিজের বক্তব্য অন্যকে বোঝাতে পারছেন এবং অন্যের কথা বুঝতে পারছেন—তাহলেই ধরে নেওয়া যায় তিনি প্রয়োজনীয় শিক্ষা অর্জন করেছেন। শ্রমিক, উদ্যোক্তা কিংবা কারিগরি পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিরও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পড়া ও বোঝার সক্ষমতা থাকতে হবে। দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় বিষয় বুঝে সে অনুযায়ী কাজ করতে পারাও শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করাকে এখন অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে সচিব বলেন, জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে এমন পর্যায়ে যেতে হবে, যখন দেশের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে কোনো শিক্ষার্থী শিক্ষিত কি না তা ঘোষণা করার প্রয়োজন হবে না; আন্তর্জাতিক মূল্যায়নই তার শিক্ষা ও দক্ষতার মান সম্পর্কে ধারণা দেবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, একটি শ্রেণির শিক্ষার্থীর যে শিক্ষণফল অর্জন করার কথা, তা যদি সে নিজের জীবনে প্রয়োগ করতে পারে, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে যথাযথভাবে সাড়া দিতে পারে এবং প্রয়োজনীয় বিষয় বুঝতে পারে, তাহলেই শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জিত হয়েছে বলে বিবেচনা করা যায়।

এই লক্ষ্য সামনে রেখে কারিকুলাম প্রণয়ন, গবেষণা এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়ার কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ধাপে ধাপে শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত মানে উন্নীত করা হবে।

উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে বলে জানান জেসমিন নাহার। তিনি বলেন, ‘ফাউন্ডেশনাল লিটারেসি অ্যান্ড লিটারেসি’কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে দেশের নিজস্ব মূল্যায়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল্যায়ন ব্যবস্থার দিকেও এগোতে চায় সরকার।

বিজ্ঞাপন

বিশ্বের অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থীদের যেভাবে মূল্যায়ন করা হয়, একই ধরনের মানদণ্ডে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের দক্ষতা যাচাই করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার আওতায় আনার বিষয়ে সচিব বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশকে প্রতিবন্ধীবান্ধব ও সহনশীল করতে হবে। একটি শিশু যাতে হুইলচেয়ারে করে স্কুলে যেতে পারে এবং সেখানে প্রয়োজনীয় শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

যারা হাঁটতে পারে না বা বিভিন্ন কারণে শিক্ষার ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে, তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী ট্রাইসাইকেল, হুইলচেয়ারসহ সহায়ক উপকরণ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার প্রসঙ্গে জেসমিন নাহার বলেন, ‘ঝরে পড়া’ শব্দটি রাখতে চাই না। যে শিশু কোনো কারণে স্কুলে আসতে পারছে না, তাকেও শিক্ষার আওতায় আনতে হবে।

বিজ্ঞাপন

কোনো শিশু ক্ষুধার কারণে স্কুলে আসতে না পারলে তার জন্য খাবারের ব্যবস্থা করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। সরকারের চালু করা মিল কার্যক্রম প্রায় সর্বত্র বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং পর্যায়ক্রমে এটি সারা দেশে চালু করা হবে বলে জানান সচিব।

তিনি বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ ও প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। তবে এসব কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হতে হবে কাঙ্ক্ষিত শিক্ষণফল অর্জন। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা যাতে বৈশ্বিক দক্ষতা অর্জন করে বিশ্বপরিসরে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এগোতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. মোখলেছুর রহমান এবং উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক মনোয়ারা ইশরাত।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ‘উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সম্মাননা ২০২৬’ দেওয়া হয়।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD