Logo

গ্যাস নিয়ে বড় সুখবর, গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ৬৭ মিলিয়ন ঘনফুট

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৭:২৯
গ্যাস নিয়ে বড় সুখবর, গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ৬৭ মিলিয়ন ঘনফুট
ছবি: সংগৃহীত

দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে তিতাস ও বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রে একাধিক কূপের উন্নয়ন ও খননকাজ এগিয়ে চলছে। এর অংশ হিসেবে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে দৈনিক ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।

বিজ্ঞাপন

একই সঙ্গে তিতাস-২৯, ৩০ ও ৩১ এবং বাখরাবাদ-১১ নম্বর কূপ থেকে আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে আরও প্রায় ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের প্রস্তুতি চলছে। সবগুলো কূপ থেকে উৎপাদন শুরু হলে বিজিএফসিএলের পাঁচটি নতুন কূপে দৈনিক প্রায় সাড়ে ৬৭ মিলিয়ন ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

গ্যাসের আমদানি-নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে নতুন কূপ খননের পাশাপাশি পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রের উন্নয়ন কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজিএফসিএলের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম জানান, শনিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে তিতাস-২৮ নম্বর কূপের উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের পরই কূপটি প্রসেস প্ল্যান্টের মাধ্যমে সরাসরি জাতীয় গ্যাস গ্রিডে যুক্ত হবে।

‘তিতাস ও কামতা ফিল্ডে ৪টি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খনন’ প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম জসীম উদ্দিন বলেন, প্রায় ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি কূপের উন্নয়ন ও খননকাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৩ হাজার ফুট গভীর তিতাস-২৮ নম্বর কূপের খননকাজ এক মাস আগেই শেষ হয়েছে। বাকি কূপগুলোর কাজও এগিয়ে চলছে।

বিজ্ঞাপন

বিজিএফসিএলের গভীর অনুসন্ধান গ্যাস কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক মো. মাহমুদুল নবাব জানান, তিতাস-২৯ নম্বর কূপের মূল খননকাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে চলছে লগিং ও আনুষঙ্গিক পরীক্ষা। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে কূপটি থেকে দৈনিক ১০ থেকে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন শুরু হতে পারে।

তিনি জানান, তিতাস-৩০ নম্বর কূপ থেকে আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে দৈনিক আরও ১০ থেকে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। তিতাস-৩১ নম্বর গভীর অনুসন্ধান কূপ থেকেও আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের আশা করছে বিজিএফসিএল।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

কর্মকর্তারা জানান, তিতাস-৩১ নম্বর কূপের কাজ শেষ হওয়ার পর বাখরাবাদ-১১ নম্বর গভীর কূপ খননের কাজ শুরু হবে। ওই কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

এদিকে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে বর্তমানে আনুমানিক দেড় ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) গ্যাস মজুত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের প্রত্যাশা, গভীর অনুসন্ধানমূলক তিতাস-৩১ নম্বর কূপ সফল হলে গ্যাসক্ষেত্রটিতে আরও প্রায় ২ টিসিএফ নতুন গ্যাসের মজুতের সম্ভাবনা উন্মোচিত হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

নতুন এসব কূপ থেকে গ্যাস উৎপাদন শুরু হলে দেশীয় উৎসের সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি আমদানি করা গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD