Logo

লোডশেডিংয়ে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইলেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২০:০২
লোডশেডিংয়ে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইলেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

দেশজুড়ে চলমান তীব্র লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ সংকটের জন্য জাতীয় সংসদে দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সংকটের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য বিগত সরকারের ১৫ বছরের ‘ভুল ও অপরিকল্পিত নীতি’কে দায়ী করেন তিনি।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সরকার কোনো তথ্য গোপন করতে চায় না। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটে মানুষ যে দুর্ভোগে পড়েছেন, তার জন্য তিনি তার মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে এ সংকট একদিনে তৈরি হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের ভুল নীতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা তৈরি হয়েছে। দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ১২ হাজার মেগাওয়াট। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু দেশীয় উৎপাদন ও এলএনজি আমদানি মিলিয়ে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি জানান, কারিগরি সমস্যার কারণে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া আদানি গ্রুপের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে দিনে ৯০০ এবং রাতে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি গ্যাস সরবরাহেও বড় ধরনের সমস্যার কথা তুলে ধরেন তিনি। গত ২১ জুলাই একটি এফএসআরইউ (ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল) নষ্ট হয়ে যাওয়ায় গ্যাস সরবরাহব্যবস্থায় বড় বিপর্যয় দেখা দেয়। মেরামতের পর গত ১৫ আগস্ট সেটি আবার চালু করা হয়।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার বাধ্য হয়ে ব্যয়বহুল ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে সর্বোচ্চ উৎপাদনের চেষ্টা করছে। তার দাবি, আগের সরকার এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকদের প্রায় ৪৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বকেয়া রেখে যায়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংকট মোকাবিলায় দ্রুত ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বলেও জানান তিনি। এর ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মালিকরা জ্বালানি আমদানি করে উৎপাদন চালিয়ে যেতে পারবেন। সেপ্টেম্বরের মধ্যেই বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য রাত ৮টার পর দোকানপাট ও বিপণিবিতান বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলতে সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD