Logo

দ্বিতীয় যমুনা-পদ্মা সেতু নির্মাণে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার চুক্তি স্বাক্ষর

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৮:৩৩
দ্বিতীয় যমুনা-পদ্মা সেতু নির্মাণে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার চুক্তি স্বাক্ষর
ছবি প্রতিনিধি।

দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে দ্বিতীয় যমুনা ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য পরামর্শক সেবা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সম্মেলন কক্ষে ‘যমুনা ও পদ্মা নদীর ওপর দ্বিতীয় যমুনা ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য পরামর্শক সেবা’ শীর্ষক এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, দেশের যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন, আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন মেগা অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এরই ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় যমুনা ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার চুক্তি স্বাক্ষর দেশের সেতু অবকাঠামো উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

তিনি আরও বলেন, দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার বহুমুখীকরণ, নিরবচ্ছিন্ন আঞ্চলিক সংযোগ নিশ্চিতকরণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত করতে সমীক্ষার মাধ্যমে সঠিক ও অনুমোদিত স্থানে সেতু নির্মাণ একটি দূরদর্শী উদ্যোগ। প্রস্তাবিত সেতু নির্মাণের মাধ্যমে দেশের উত্তর, দক্ষিণ-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ ও কার্যকর হবে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

পাশাপাশি এসব সেতু নির্মিত হলে বিদ্যমান সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর চাপ কমবে এবং পণ্য ও যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থায় নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পক্ষে প্রধান প্রকৌশলী মো. আবুল হোসেন এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সার্ম অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অনুমোদিত স্বাক্ষরকারী প্রকৌশলী মিয়া মোহাম্মদ কাইয়ুম নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

এই পরামর্শক সেবার সঙ্গে যৌথভাবে সম্পৃক্ত রয়েছে এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট, নেপাল; সুইডিশ ন্যাশনাল রোড কনসালটিং, সুইডেন; দাসান কনসালট্যান্টস, দক্ষিণ কোরিয়া; দেশ উপদেশ লিমিটেড, বাংলাদেশ এবং সার্ম অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড, বাংলাদেশ। এ ছাড়া উপ-পরামর্শক হিসেবে কাজ করবে টিলার, বাংলাদেশ।

সম্ভাব্যতা সমীক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ চাহিদা পূরণে টেকসই, নিরাপদ ও অর্থনৈতিকভাবে সুফলদায়ক সেতু নির্মাণের জন্য উপযুক্ত সেতুর অবস্থান, কারিগরি ও কাঠামোগত বিকল্প চিহ্নিত করা এবং সর্বোত্তম বিকল্পের বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়ন করা।

বিজ্ঞাপন

সমীক্ষার আওতায় প্রয়োজনীয় কারিগরি, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত, সামাজিক ও আর্থিক বিষয় পর্যালোচনা করা হবে। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়নের উপযোগিতা যাচাই করা হবে।

সম্ভাব্যতা সমীক্ষার মোট মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ মাস। তবে সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক গুণগত মান বজায় রেখে আগামী ৮ থেকে ৯ মাসের মধ্যে সমীক্ষার কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানিয়েছেন।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সেতু বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং সংশ্লিষ্ট পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD