মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক বার্তা এডিবির

বাংলাদেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের পথে ফিরলেও মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সংস্থাটির সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
এডিবির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি আরও বাড়তে পারে। তবে প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সরবরাহ, ব্যাংকিং খাত এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংস্থাটির মতে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ধীরে ধীরে গতি ফিরছে। তবে বহিরাগত ধাক্কা ও দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া এখনো ঝুঁকিমুক্ত নয়। বিশেষ করে জ্বালানি ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর বৈশ্বিক চাপ অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
এডিবি মনে করছে, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমলে ভোগ ও বিনিয়োগ বাড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে কৃষি ও সেবা খাতের কার্যক্রম বাড়লে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও গতি আসতে পারে। তবে উচ্চ ঋণ ব্যয়, ঋণের সীমিত প্রাপ্যতা, জ্বালানি সংকট, দুর্বল বৈদেশিক চাহিদা এবং দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যা শিল্প ও বেসরকারি বিনিয়োগে বাধা হয়ে থাকতে পারে।
বিজ্ঞাপন
মূল্যস্ফীতি নিয়ে সতর্কতা
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উচ্চ মূল্যস্ফীতিকে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে এডিবি। সংস্থাটির সেপ্টেম্বরের তথ্যভিত্তিক পূর্বাভাসে ২০২৬ ও ২০২৭ অর্থবছরের মূল্যস্ফীতির হিসাব দেওয়া হয়েছে এবং আগামী সময়েও মূল্যস্ফীতির চাপ অব্যাহত থাকার ঝুঁকি তুলে ধরা হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
জ্বালানি ও বিদ্যুতের ব্যয়, উৎপাদন ও পরিবহন খরচ এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় সম্ভাব্য বিঘ্ন পণ্যের দামে চাপ তৈরি করতে পারে। জলবায়ুজনিত অভিঘাত ও খাদ্য সরবরাহে সমস্যা দেখা দিলেও মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমে যেতে পারে। ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়লেও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ সাধারণ মানুষের ওপর অব্যাহত থাকতে পারে।
বিজ্ঞাপন
রেমিট্যান্সে স্বস্তি, বাড়তে পারে চলতি হিসাবের ঘাটতি
আগামী অর্থবছরে আমদানি বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের চলতি হিসাবের ঘাটতি কিছুটা বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতি বহিরাগত স্থিতিশীলতায় সহায়ক হতে পারে।
এডিবির মতে, বৈদেশিক খাতে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে পর্যাপ্ত আর্থিক প্রবাহ নিশ্চিত করা, বিনিময় হারকে নমনীয় রাখা এবং বিচক্ষণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ।
বিজ্ঞাপন
কৃষি ও সেবা খাতকে গুরুত্ব
২০২৭ অর্থবছরে কৃষি ও সেবা খাত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। ব্যক্তিগত ভোগব্যয়ও প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালক হিসেবে থাকতে পারে, যেখানে প্রবাসী আয় গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিতে পারে।
তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি পরিবারের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি করলে ভোগব্যয়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে শিল্প ও বেসরকারি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধাগুলো কাটানো জরুরি বলে এডিবির বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
বিজ্ঞাপন
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও জ্বালানি ঝুঁকি
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বহিরাগত ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করছে এডিবি। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি তেলের দাম, পরিবহন ব্যয় ও আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ বাড়তে পারে। এতে আমদানি-রপ্তানি ব্যয়ও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এর পাশাপাশি বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি দুর্বল হওয়া, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন বিধিনিষেধ, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারে চাপ, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং আর্থিক ও রাজস্ব সংস্কারে বিলম্ব বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সংস্কারে জোর এডিবির
বিজ্ঞাপন
অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করতে সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, আর্থিক খাত, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ব্যবসায়িক পরিবেশে সংস্কার ত্বরান্বিত করার ওপর জোর দিয়েছে এডিবি।
সংস্থাটির মতে, কার্যকর সংস্কার বাস্তবায়ন করা গেলে বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে অর্থনীতির উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বহিরাগত ধাক্কা মোকাবিলার সক্ষমতাও শক্তিশালী হতে পারে।
এডিবির সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর আউটলুক অনুযায়ী, বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পথে এগোলেও সামনে মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি বাজার, ব্যাংকিং খাত ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি থেকে আসা ঝুঁকি মোকাবিলা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।








