ই-জিপি উন্নয়নে ৪২ কোটি টাকায় পরামর্শক নিয়োগ

সরকারি ক্রয় কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে ই-জিপি ব্যবস্থার উন্নয়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এক বছরের জন্য ৪২ কোটি ১৮ লাখ ৭১ হাজার ৬০৪ টাকা ব্যয়ে দোহাটেক নিউ মিডিয়াকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে প্রস্তাবটি অনুমোদন করা হয়।
বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের প্রস্তাবের ভিত্তিতে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির বাস্তবায়নাধীন ‘প্রকিউরমেন্ট মডার্নাইজেশন টু ইমপ্রুভ পাবলিক সার্ভিসেস ডেলিভারি’ প্রকল্পের আওতায় প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এ কাজে সরকারের নিজস্ব অর্থের পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের ঋণের অর্থ ব্যয় হবে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ই-জিপি ব্যবস্থার উন্নয়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ‘স্ট্রেংদেনিং ইনস্টিটিউশনস ফর ট্রান্সপারেন্সি অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি’ প্রকল্পের একটি উপাদান হিসেবে। এরই অংশ হিসেবে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
ক্রয় প্রক্রিয়ায় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে দোহাটেক নিউ মিডিয়ার কাছে দরপ্রস্তাব দাখিলের অনুরোধপত্র পাঠানো হয়। প্রতিষ্ঠানটি কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব জমা দেওয়ার পর সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হয়। মূল্যায়নে প্রতিষ্ঠানটির প্রস্তাব উভয় দিক থেকেই গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়।
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী ধাপে প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে দর-কষাকষি করা হয়। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে দোহাটেক নিউ মিডিয়াকে গ্রহণযোগ্য দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে প্রকল্পের পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রকল্পটির সার্বিক ক্রয় পরিকল্পনায় এই প্যাকেজের জন্য সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে পরামর্শক নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে।
প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় অনুমোদিত হয়। এর বাস্তবায়নকাল ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।
বিজ্ঞাপন
ই-জিপিতে যুক্ত হবে নতুন সুবিধা
প্রস্তাব অনুযায়ী, পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের অন্যতম দায়িত্ব হবে সরকারি ক্রয় বিধিমালা ২০২৫ অনুযায়ী আদর্শ দরপত্র দলিল ই-জিপি ব্যবস্থায় সংযোজন করা। একই সঙ্গে নতুন বিধিমালা ও অনুমোদিত ব্যবসায়িক কার্যপ্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ই-জিপিতে নতুন সুবিধা ও বৈশিষ্ট্য যুক্ত করা হবে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া ই-জিপিতে স্থগিতকরণ, নিষিদ্ধকরণ, তালিকাভুক্তি ও ভৌত সেবাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি বিভিন্ন তথ্যব্যবস্থার সঙ্গে ই-জিপির আন্তঃসংযোগ স্থাপন এবং লটভিত্তিক দরপত্র প্রক্রিয়াকরণের ব্যবস্থাও চালু করা হবে।
আন্তর্জাতিক মান ও প্রচলিত নমুনা অনুসরণ করে ই-জিপি ব্যবস্থায় চুক্তিসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের ব্যবস্থাও উন্নত করা হবে। পাশাপাশি ডিজিটাল স্বাক্ষর ব্যবহার করে ই-জিপির মাধ্যমে চুক্তি সম্পাদনের প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ থাকবে।
বিজ্ঞাপন
পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিতভাবে ই-জিপির ত্রুটি ও কারিগরি সমস্যা শনাক্ত করে সমাধান করবে। পাশাপাশি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং নির্ধারিত সেবা মানচুক্তি অনুযায়ী ই-জিপি ব্যবস্থার পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বও পালন করবে।








