তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে মিলবে নিয়মিত আয়

যাঁরা নির্দিষ্ট সময় পরপর সঞ্চয়ের মুনাফা তুলতে চান, তাঁদের জন্য তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র একটি বিনিয়োগের সুযোগ। পরিবার সঞ্চয়পত্র বা পেনশনার সঞ্চয়পত্রের মতো নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষের মধ্যে এটি সীমাবদ্ধ নয়; সাধারণ বাংলাদেশি নাগরিকসহ নির্ধারিত যোগ্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এ সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন। এর মেয়াদ তিন বছর এবং প্রতি তিন মাস পরপর মুনাফা তোলার সুবিধা রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সঞ্চয়পত্র কেনার আগে এর মূল্যমান, মুনাফার হার, বিনিয়োগসীমা, কর এবং আগাম নগদায়নের নিয়ম জানা জরুরি।
কত টাকার সঞ্চয়পত্র কেনা যায়
তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের মূল্যমান ১ লাখ, ২ লাখ, ৫ লাখ ও ১০ লাখ টাকা। বিনিয়োগকারীরা তাঁদের সামর্থ্য ও প্রযোজ্য বিনিয়োগসীমা অনুযায়ী সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন।
বিজ্ঞাপন
জেলা সঞ্চয় অফিস, জাতীয় সঞ্চয় বিশেষ ব্যুরো, বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ডাকঘর থেকে এ সঞ্চয়পত্র কেনা এবং নগদায়ন করা যায়।
সঞ্চয়পত্রটির মেয়াদ তিন বছর। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ভাঙালে প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী মুনাফার হার কমে যায়। আগে বেশি মুনাফা দেওয়া হয়ে থাকলে অতিরিক্ত অর্থ মূল টাকা থেকে সমন্বয় করা হতে পারে।
মুনাফার হার কত
বিজ্ঞাপন
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, তিন বছর মেয়াদ শেষে বিনিয়োগের পরিমাণের ভিত্তিতে মুনাফার হার দুই ধরনের।
• সাড়ে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ: মেয়াদ পূর্ণ হলে বার্ষিক ১১.৮২ শতাংশ হারে মুনাফা।
• সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ: মেয়াদ পূর্ণ হলে বার্ষিক ১১.৭৭ শতাংশ হারে মুনাফা।
বিজ্ঞাপন
মেয়াদপূর্তির আগে সঞ্চয়পত্র ভাঙালে মুনাফার হার কমে যাবে। তাই বিনিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট সঞ্চয় অফিস বা ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বর্তমান হার ও আগাম নগদায়নের শর্ত নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত।
মুনাফার ওপর উৎসে কর
সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর উৎসে কর কাটা হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখিত আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১০৫ ধারার তথ্য অনুযায়ী, কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) থাকলে মুনাফার ১০ শতাংশ এবং টিআইএন না থাকলে ১৫ শতাংশ অগ্রিম কর কাটার কথা বলা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চলতি বছর থেকে উৎসে কাটা কর আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় সমন্বয় করা যাবে। অর্থাৎ, উৎসে কর কর্তনই সব ক্ষেত্রে চূড়ান্ত করদায় নয়। তবে বিনিয়োগের আগে বর্তমান করবিধি ও প্রযোজ্য শর্ত যাচাই করা প্রয়োজন।
কারা এই সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন
নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে নিম্নলিখিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে পারেন:
বিজ্ঞাপন
১. সব শ্রেণি ও পেশার বাংলাদেশি নাগরিক।
২. স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিল এবং ভবিষ্য তহবিল আইন, ১৯২৫ অনুযায়ী পরিচালিত ভবিষ্য তহবিল।
৩. নির্ধারিত শর্তে মৎস্য, হাঁস-মুরগি, গবাদিপশু ও দুগ্ধ খামার, বীজ উৎপাদন ও বিপণন, উদ্যান, রেশম গুটিপোকা পালন, ছত্রাক উৎপাদন এবং ফল ও লতাপাতা চাষ থেকে আয় করা যোগ্য ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়ন প্রয়োজন হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
৪. অটিস্টিক ব্যক্তিদের জন্য প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং তাঁদের সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান। বিনিয়োগের মুনাফা অটিস্টিক ব্যক্তিদের সহায়তায় ব্যয় করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রত্যয়নপত্র থাকতে হবে।
৫. দুস্থ ও অনাথ শিশুদের জন্য নিবন্ধিত আশ্রয়প্রতিষ্ঠান, যেমন অনাথ আশ্রম, শিশু পরিবার ও এতিমখানা।
৬. প্রবীণদের জন্য নিবন্ধিত আশ্রয়কেন্দ্র।
বিজ্ঞাপন
প্রতিষ্ঠানভেদে যোগ্যতা ও কাগজপত্রের শর্ত আলাদা হতে পারে। তাই কেনার আগে ইস্যু অফিস থেকে প্রয়োজনীয় নথির তালিকা জেনে নেওয়া ভালো।
সর্বোচ্চ কত টাকা বিনিয়োগ করা যায়
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আলাদা। ব্যক্তি—একক নামে সর্বোচ্চ বিনিয়োগসীমা ৩০ লাখ টাকা, ব্যক্তি—যুগ্ম নামে সর্বোচ্চ বিনিয়োগসীমা ৬০ লাখ টাকা, ভবিষ্য তহবিল সর্বোচ্চ বিনিয়োগসীমা মোট স্থিতির ৫০ শতাংশ, সর্বোচ্চ ৫০ কোটি টাকা, ফার্ম সর্বোচ্চ বিনিয়োগসীমা ২ কোটি টাকা এবং নির্ধারিত অটিস্টিক সহায়ক প্রতিষ্ঠান, শিশু আশ্রয়প্রতিষ্ঠান ও প্রবীণ আশ্রয়কেন্দ্র সর্বোচ্চ বিনিয়োগসীমা ৫ কোটি টাকা।
বিজ্ঞাপন
এসব সীমা সংশ্লিষ্ট বিধি ও যোগ্যতার শর্তের অধীন। বিনিয়োগের আগে বর্তমান নিয়ম যাচাই করা উচিত।
সঞ্চয়পত্রের বাড়তি সুবিধা
তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে কয়েকটি সুবিধা রয়েছে:
বিজ্ঞাপন
• নিয়মিত মুনাফা: প্রতি তিন মাস পরপর মুনাফা তোলা যায়।
• নমিনি নিয়োগ: সঞ্চয়পত্র কেনার সময় নমিনি নির্ধারণ করা যায়।
• ক্রেতার মৃত্যুর পর সুবিধা: নিয়ম অনুযায়ী নমিনি সঞ্চয়পত্র নগদায়ন করে অর্থ তুলতে পারেন অথবা মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত নির্ধারিত বিরতিতে মুনাফা নিতে পারেন।
• পুনঃবিনিয়োগ: মেয়াদপূর্তির আগে ইস্যু অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রযোজ্য নিয়মে স্বয়ংক্রিয় পুনঃবিনিয়োগের সুবিধা নেওয়া যায়।
সব মিলিয়ে, যাঁরা তিন মাস পরপর মুনাফা পেতে চান, তাঁদের জন্য এই সঞ্চয়পত্র বিবেচনার একটি বিকল্প। তবে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বর্তমান মুনাফার হার, কর, বিনিয়োগসীমা এবং আগাম নগদায়নের শর্ত সংশ্লিষ্ট সঞ্চয় অফিস বা ব্যাংক থেকে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া জরুরি।
তথ্য সূত্র : জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর








