Logo

ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবে আবারও বাড়ছে এলপিজির দাম, ১৩৯ টাকা বৃদ্ধির সুপারিশ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১৯:২৮
ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবে আবারও বাড়ছে এলপিজির দাম, ১৩৯ টাকা বৃদ্ধির সুপারিশ
ছবি: সংগৃহীত

গ্রাহকদের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা না করে কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে বেসরকারি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বিভিন্ন পর্যায়ে চার্জ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি। এর ফলে ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৭৬ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শুনানির ৯০ দিনের মধ্যে সুপারিশ ও মতামতের ভিত্তিতে নতুন দাম ঘোষণা করার কথা বিইআরসির। তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহেই নতুন দাম ঘোষণা করতে পারে কমিশন।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১০টায় রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশনে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে এসব সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, এলপিজির ইমপোর্ট প্যারিটি প্রাইস বর্তমানে প্রতি কেজি ১২৮ টাকা ৪০ পয়সা। নতুন প্রস্তাবে এ দাম ১১৭ টাকা ১২ পয়সা থেকে ১২৯ টাকা ৫০ পয়সার মধ্যে নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। কমিটি প্রতি কেজি ১২৮ টাকা ৭০ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে।

বিজ্ঞাপন

মজুতকরণ ও বোতলজাতকরণ চার্জ—অপারেটরের প্ল্যান্ট থেকে ডিস্ট্রিবিউটর পর্যন্ত পরিবহন খরচসহ—বর্তমানে প্রতি কেজি ১৬ টাকা ৭৪ পয়সা। কোম্পানিগুলো এ চার্জ ২৭ টাকা ৬২ পয়সা থেকে ৩৬ টাকা ৯২ পয়সা করার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে কারিগরি কমিটি প্রতি কেজিতে ২৩ টাকা ৪৮ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ডিস্ট্রিবিউটর চার্জ, অর্থাৎ রিটেইলারের আঙিনা পর্যন্ত পরিবহন ব্যয়সহ, বর্তমানে প্রতি কেজি ৪ টাকা ১৭ পয়সা। প্রস্তাবনায় এ চার্জ ৮ টাকা ৩৪ পয়সা থেকে ১২ টাকা ৫০ পয়সা করার কথা বলা হয়। কারিগরি কমিটি তা বাড়িয়ে ৬ টাকা ৬৭ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে।

রিটেইলার চার্জ বর্তমানে প্রতি কেজি ৩ টাকা ৭৫ পয়সা, যেখানে হোম ডেলিভারি চার্জ অন্তর্ভুক্ত নয়। কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব ছিল এ হার ৫ টাকা ৮৩ পয়সা থেকে ৭ টাকা ৫০ পয়সা করার। তবে কমিটি প্রতি কেজিতে ৫ টাকা ৮৩ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে।

বিজ্ঞাপন

সব খরচ মিলিয়ে রিটেইলার পর্যায়ে প্রতি কেজি এলপিজির বর্তমান মূল্য ১৫৩ টাকা ৬০ পয়সা। কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবে তা ১৫৮ টাকা ৯১ পয়সা থেকে ১৮৫ টাকা ৯৭ পয়সা করার কথা বলা হয়। কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি প্রতি কেজির দাম ১৬৪ টাকা ৬৮ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে।

এসব হিসাব বিবেচনায় ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৭৬ টাকা করার সুপারিশ করেছে বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি।

গণশুনানিতে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেন, এলপিজির দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করা বিইআরসির দায়িত্ব। তা না হলে এই শুনানি সঠিক হবে না।

বিজ্ঞাপন

সিনিয়র সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ব্যবসায়ীদের কথায় বারবার দাম বাড়ানো হলে বিইআরসির ওপর গ্রাহকদের আস্থা থাকবে না। কেন গ্রাহকরা ন্যায্য দামে এলপিজি পাচ্ছেন না, তা কমিশনের খতিয়ে দেখা উচিত। পাশাপাশি বেশি দাম নেওয়া ও কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, এসব বিষয় বিবেচনা না করে কারিগরি কমিটি দাম বাড়ানোর সুপারিশ করছে। এটি যেন আগে এসে সিট দখল করার মতো। এখন বিইআরসির উচিত একটু বিরতি নেওয়া এবং সাধারণ মানুষের দিকটি বিবেচনা করা।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD