Logo

বিশ্ববাজারে কমল সোনার দাম, বাংলাদেশে ভরিপ্রতি কত?

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১৭:১১
বিশ্ববাজারে কমল সোনার দাম, বাংলাদেশে ভরিপ্রতি কত?
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে সোনার দাম কিছুটা কমেছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা তৈরি হয়েছে। তেলের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চপর্যায়ে থাকতে পারে—এমন প্রত্যাশা সোনার বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম ০ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৫৫ দশমিক ৫৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত সোনার ফিউচার চুক্তির দামও ০ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭০ দশমিক ২০ ডলারে নেমেছে।

বাংলাদেশি মুদ্রায় ভরিপ্রতি সোনার দাম কত?

প্রতি আউন্স স্পট সোনার দাম ৪ হাজার ৫৫ দশমিক ৫৯ ডলার এবং প্রতি ডলারের বিনিময়মূল্য ১২৩ দশমিক ৯৫ টাকা ধরে হিসাব করলে, বাংলাদেশি মুদ্রায় এক আউন্স সোনার দাম দাঁড়ায় প্রায় ৫ লাখ ৩ হাজার ৬৭৭ টাকা। সে হিসাবে প্রতি ভরি সোনার আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫১২ টাকা।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দর সাধারণত আউন্স হিসাবে নির্ধারিত হয়। এক আউন্সে প্রায় ২৮ দশমিক ৩৫ গ্রাম সোনা থাকে। অন্যদিকে, এক ভরি সমান ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম। এই হিসাবে এক আউন্স সোনার পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৪৩ ভরি।

বিজ্ঞাপন

তবে এই মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারের স্পট দর ও নির্ধারিত বিনিময়মূল্যের ভিত্তিতে করা আনুমানিক হিসাব। বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারে সোনার বিশুদ্ধতা, আমদানি ও সরবরাহ পরিস্থিতি, কর এবং অন্যান্য খরচের কারণে প্রকৃত দাম ভিন্ন হতে পারে।

তেলের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা

সৌদি আরবের একটি তেল শোধনাগারে হামলার পর জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলারের বেশি বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের জলবায়ু ও পণ্যবাজারবিষয়ক অর্থনীতিবিদ হামাদ হুসাইন বলেন, তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং এর জেরে ফেডারেল রিজার্ভ বাজারের প্রত্যাশার চেয়ে কঠোর নীতি নিতে পারে—এমন আশঙ্কা সোনার দামের ওপর চাপ তৈরি করছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সাধারণত জ্বালানির দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকিও বাড়ে। এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার দীর্ঘ সময় বেশি রাখতে পারে। সোনা থেকে নিয়মিত সুদ পাওয়া যায় না বলে সুদের হার বেশি থাকলে এটি ধরে রাখার সুযোগব্যয় বেড়ে যায়। ফলে বিনিয়োগকারীরা সোনার পরিবর্তে সুদ পাওয়া যায়—এমন সম্পদের দিকে ঝুঁকতে পারেন।

ফেডের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে বিনিয়োগকারীরা

এখন বিনিয়োগকারীদের নজর ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতির ইঙ্গিতের দিকে। সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা হলেও পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বক্তব্য সোনার বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।

বিজ্ঞাপন

জ্বালানি তেলের দাম দীর্ঘ সময় উচ্চপর্যায়ে থাকলে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে। এর প্রতিক্রিয়ায় সুদের হার দীর্ঘ সময় বেশি রাখার প্রবণতা তৈরি হলে সোনার দামে আরও চাপ পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

তথ্য সূত্র : রয়টার্স

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD