আটক শ্রমিক নেতাদের মুক্তি চাইলেন মজুরি বোর্ডের প্রতিনিধিরা

তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য ও বাস্তবসম্মত মজুরি কাঠামো প্রণয়নে সব শ্রমিক ফেডারেশন ও সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে ঐকমত্যে পৌঁছানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের শ্রমিক প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে চলমান মজুরি আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আটক শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাদের অবিলম্বে মুক্তি, হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং কোনো শ্রমিককে চাকরিচ্যুত বা হয়রানি না করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর শ্রম ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন শ্রমিক প্রতিনিধিরা। এতে সভাপতিত্ব করেন ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের শ্রমিক পক্ষের স্থায়ী প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসাইন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বোর্ডের শ্রমিক প্রতিনিধি ও শ্রমিক নেতা বাবুল আখতার, নাজমা আক্তার, মোছা. সুলতানা বেগম, লাভলী ইয়াসমিন, খালিকুজ্জামান লিপু, সোহেল রানাসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।
লিখিত বক্তব্যে প্রতিনিধিরা বলেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাড়িভাড়া, খাবার, চিকিৎসা, শিক্ষা ও পরিবারের অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। এ অবস্থায় জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য ও বাস্তবসম্মত মজুরি কাঠামো তৈরি করা জরুরি।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এ লক্ষ্যে মজুরি বোর্ডের অন্যতম প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে তৈরি পোশাক খাতের সব শ্রমিক ফেডারেশন ও সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে যৌথ মতবিনিময় সভা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তারা। ওই সভায় শ্রমিকদের অভিজ্ঞতা, প্রস্তাব, মতামত ও বাস্তব চাহিদা পর্যালোচনা করে একটি সম্মিলিত মজুরি প্রস্তাব তৈরি করা হবে। পরে তা বোর্ডে উপস্থাপন করা হবে।
শ্রমিক প্রতিনিধিদের ভাষ্য, ন্যায্য মজুরি আদায়ে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। তাই পারস্পরিক মতপার্থক্য দূরে রেখে শ্রমিকদের জন্য গ্রহণযোগ্য ও বাস্তবায়নযোগ্য মজুরি নিশ্চিত করতে সব পক্ষকে একযোগে কাজ করতে হবে।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে তারা বলেন, শ্রমিকদের কষ্ট ও ন্যায্য পাওনার বিষয়টি তারা বোঝেন। মজুরি বোর্ডে এসব দাবি যথাযথভাবে তুলে ধরা হবে। তবে শিল্পের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে শ্রমিকদের ধৈর্য ধরার, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার এবং নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান তারা।
বিজ্ঞাপন
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, অনেক পোশাক কারখানায় কার্যকর ট্রেড ইউনিয়ন নেই। পাশাপাশি মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় কিংবা ত্রিপক্ষীয় সামাজিক সংলাপের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে বিভিন্ন সময় শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং তৃতীয় পক্ষ পরিস্থিতির সুযোগ নিতে পারে। এ ধরনের ঘটনার দায় শ্রমিক সংগঠন বা শ্রমিক শ্রেণির ওপর চাপানো উচিত নয়। পরিস্থিতির পেছনে কারা জড়িত, তা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সরকারের দায়িত্ব।
আন্দোলনের অজুহাতে সাধারণ শ্রমিক ও কারখানার পর্যায়ের নেতাদের হয়রানি না করার জন্য পুলিশ ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান প্রতিনিধিরা। তাদের মতে, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করে পোশাকশিল্পে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। এ কারণে শ্রমিকদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত মজুরি বোর্ডের সভা আহ্বানের তাগিদ দেন তারা।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
চলমান মজুরি আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে আটক শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাদের মুক্তির দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন তারা। প্রতিনিধিরা বলেন, যারা শুধু ন্যায্য মজুরির দাবি জানানো কিংবা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কারণে আটক হয়েছেন, তাদের দ্রুত মুক্তি দিতে হবে। পাশাপাশি হয়রানিমূলক মামলা ও অন্যান্য ব্যবস্থা প্রত্যাহার করতে হবে।
বিজ্ঞাপন
তারা আরও বলেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে কোনো শ্রমিককে চাকরিচ্যুত, হয়রানি, কালো তালিকাভুক্ত কিংবা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়তে দেওয়া যাবে না। এ বিষয়ে সরকার ও মালিকপক্ষকে প্রয়োজনীয় নিশ্চয়তা দিতে হবে।
একটি গ্রহণযোগ্য মজুরি কাঠামো নির্ধারণে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, পরিবারের মৌলিক চাহিদা এবং পোশাকশিল্পের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান তারা। শ্রমিকদের প্রতিনিধি হিসেবে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকারও করেন বোর্ডের প্রতিনিধিরা।
তাদের লক্ষ্য, কোনো একক পক্ষের সিদ্ধান্তের পরিবর্তে সব শ্রমিক ফেডারেশন, কারখানাভিত্তিক ট্রেড ইউনিয়ন এবং সাধারণ শ্রমিকদের মতামতের ভিত্তিতে সম্মিলিত অবস্থান তৈরি করে মজুরি প্রস্তাব চূড়ান্ত করা।








