ঢাকায় বসছে তিন দিনের ইউএস ট্রেড শো, অংশ নিচ্ছে ৪৩ প্রতিষ্ঠান

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজধানীতে বসছে ৩০তম ইউএস ট্রেড শো ২০২৬। আগামী ৫ নভেম্বর ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা হোটেলে শুরু হয়ে তিন দিনের এ প্রদর্শনী চলবে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এবারের আয়োজনে ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার দর্শনার্থীর সমাগম হবে।
বিজ্ঞাপন
আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম) আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে অংশ নেবে ৪৩টি প্রতিষ্ঠান। তাদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে মোট ৬৩টি বুথ। সোমবার (২ নভেম্বর) ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অ্যামচ্যামের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, উপদেষ্টা পল ফ্রস্ট, সেক্রেটারি চৌধুরী কায়সার মোহাম্মদ রিয়াদ এবং সদস্য আল আমিন এম রাসেলসহ সংগঠনের অন্য প্রতিনিধিরা।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
আয়োজকেরা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পণ্য, সেবা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন বাংলাদেশের ক্রেতা এবং ব্যবসায়ীদের সামনে তুলে ধরাই এ প্রদর্শনীর অন্যতম উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র তৈরি এবং ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি করতে চান তারা।
বিজ্ঞাপন
এবারের আয়োজনে বিভিন্ন শিল্প ও ব্যবসায়িক খাতের ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সাতটি স্টার্টআপ অংশ নেবে। প্রথমবারের মতো প্রদর্শনীতে রাখা হচ্ছে খাতভিত্তিক পৃথক জোন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, ডিজিটাল অর্থনীতি, ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা, দ্রুত বিক্রয়যোগ্য ভোগ্যপণ্য (এফএমসিজি), উৎপাদন, লজিস্টিকস, শিক্ষা ও উন্নয়ন এবং কৃষিভিত্তিক ব্যবসার প্রতিষ্ঠানগুলো এসব জোনে নিজেদের পণ্য ও কার্যক্রম তুলে ধরবে।
নতুন উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী ধারণা ও ব্যবসায়িক উদ্যোগ প্রদর্শনের জন্য থাকছে বিশেষ স্টার্টআপ জোন। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে কার্নিভাল জোন ও হেরিটেজ কর্নার। কার্নিভাল জোনে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে সরাসরি পণ্য কেনার সুযোগ থাকবে। আর হেরিটেজ কর্নারে তুলে ধরা হবে ইউএস ট্রেড শোর ৩০ বছরের ইতিহাস এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে এ আয়োজনের ভূমিকা।
দর্শনার্থীদের প্রবেশ সহজ করতে এবার তিন দিন মেয়াদি অনলাইন ভিজিটর পাস চালু করা হচ্ছে। অনলাইনে নিবন্ধন করে পাস সংগ্রহ করলে ৫ থেকে ৭ নভেম্বর প্রতিদিন প্রদর্শনীতে প্রবেশ করা যাবে।
বিজ্ঞাপন
প্রদর্শনীর পাশাপাশি তিন দিনজুড়ে ছয়টি বিষয়ভিত্তিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। এতে নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী নেতা ও বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞরা অংশ নেবেন। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার, বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে এসব আলোচনায়।
সেমিনারের আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসাপ্রযুক্তি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, ডিজিটাল অর্থনীতি, নারী নেতৃত্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগের সুযোগ। এ ছাড়া সিলেক্ট ইউএসএ কর্মসূচি ও বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সম্পর্কের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হবে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এবার যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদলও অংশ নেবে। বাংলাদেশ সফরে তারা স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক করবেন, বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাই করবেন এবং নতুন বাণিজ্যিক সহযোগিতার ক্ষেত্র খুঁজবেন। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ ও অংশীদারত্ব বাড়বে বলে আশা করছে অ্যামচ্যাম।
বিজ্ঞাপন
সংগঠনটির মতে, ইউএস ট্রেড শো কেবল পণ্য ও সেবা প্রদর্শনের আয়োজন নয়; এটি দুই দেশের ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। প্রযুক্তি বিনিময়, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করতেও এ আয়োজন ভূমিকা রাখবে।
আগামী ৫ থেকে ৭ নভেম্বর প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা হোটেলে প্রদর্শনী চলবে। আগ্রহী দর্শনার্থীদের অনলাইনে নিবন্ধন করে তিন দিন মেয়াদি ভিজিটর পাস সংগ্রহের আহ্বান জানিয়েছে অ্যামচ্যাম।








