ঈদের আগেই আসতে পারে ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের প্রবেশধাপ হিসেবে ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, চলতি সপ্তাহ থেকেই শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ (ই-রিকুইজিশন) কার্যক্রম শুরু হবে। এ জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ১০ দিনের সময় দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য সংগ্রহ শেষ হলে ঈদের আগেই ১৯তম নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতে পারে। তবে প্রয়োজনে ই-রিকুইজিশনের সময় বাড়ানো হলে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশও পিছিয়ে যেতে পারে।
এ বিষয়ে এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম জানান, কর্তৃপক্ষ ঈদের আগেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশে আগ্রহী। তবে এটি নির্ভর করছে শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহের অগ্রগতির ওপর। তিনি বলেন, ঈদের আগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ পেলেও আবেদন গ্রহণ শুরু হবে ঈদের পর থেকে। আর যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন না হয়, তাহলে ঈদের পর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।
বিজ্ঞাপন
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৯তম নিবন্ধনে লিখিত পরীক্ষা যুক্ত হতে পারে—এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন চেয়ারম্যান। তিনি জানান, পরীক্ষার ধরন বিজ্ঞপ্তিতেই উল্লেখ থাকবে এবং সেখানে লিখিত পরীক্ষার কথা বলা হয়নি। ২০০ নম্বরের এমসিকিউ পদ্ধতিতেই পরীক্ষা নেওয়া হবে। ফলে প্রার্থীদের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
১৯তম নিবন্ধনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ই-রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম দফায় ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হলেও পরে তা বাড়িয়ে ১ মার্চ পর্যন্ত করা হয়। এখন শূন্য পদের চাহিদা সংগ্রহের পর্ব শুরু হচ্ছে, যা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পূর্বশর্ত।
নতুন নিয়োগ ব্যবস্থায় স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি—এই তিন বিভাগে ২০০ নম্বরের অভিন্ন পরীক্ষা কাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছে। আগে স্কুল-কলেজ ও কারিগরি শাখায় ১০০ নম্বর সাবজেক্টিভ ও ১০০ নম্বর জেনারেল, আর মাদ্রাসায় ১৪০ নম্বর সাবজেক্টিভ ও ৬০ নম্বর জেনারেল রাখার প্রস্তাব ছিল। তবে এভাবে বিভাজন করলে বৈষম্যের আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তাই তিন বিভাগের জন্য একই নম্বরবিন্যাস ও কাঠামো চূড়ান্ত করার চিন্তা চলছে।
বিজ্ঞাপন
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আলাদা আলাদা পদ্ধতি চালু হলে প্রার্থীদের মধ্যে বৈষম্যের অভিযোগ উঠতে পারে। তাই অভিন্ন পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এনটিআরসিএ’র নিবন্ধন পরীক্ষার ইতিহাসে এবারই প্রথম ভাইভা নম্বর যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন বিধিমালায় মৌখিক পরীক্ষার নম্বর অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এছাড়া আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হচ্ছে—১৯তম নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিন থেকেই বয়স গণনা করা হবে, যা আগে এভাবে নির্ধারিত ছিল না।
বিজ্ঞাপন
সব মিলিয়ে, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনকে ঘিরে প্রার্থীদের মধ্যে আগ্রহ ও প্রত্যাশা বাড়ছে। এখন চূড়ান্ত নজর ই-রিকুইজিশন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার দিকে—তারপরই স্পষ্ট হবে কবে প্রকাশ পাবে বহুল প্রতীক্ষিত বিজ্ঞপ্তি।








