যোগদানের আগে আবারও পরীক্ষায় বসতে হবে শিক্ষকদের

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ও সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের যোগদানের আগে আবারও মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। এ লক্ষ্যে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) নতুন একটি প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন পদ্ধতি তৈরি করছে। এই মূল্যায়নে যারা উত্তীর্ণ হবেন, কেবল তারাই চূড়ান্তভাবে যোগদানের সুযোগ পাবেন।
বিজ্ঞাপন
নেপ সূত্রে জানা গেছে, সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন মডিউল তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। খুব শিগগিরই এটি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে। পরে মন্ত্রণালয়ের সভায় আলোচনা শেষে প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন পদ্ধতির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।
নেপের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পিটিআইএর মাধ্যমে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ হবে। পিটিআইএর প্রশিক্ষণ ১০ মাসের হলেও এ প্রশিক্ষণ দুই থেকে তিন মাস হবে। এরপর মূল্যায়ন হবে। মূল্যায়নের ফলাফল অনুযায়ী প্রার্থীদের যোগদানের সিদ্ধান্ত নেবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বিজ্ঞাপন
নেপের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষকদের মূল্যায়ন দুই ধাপে হবে। এক ধাপ প্রশিক্ষণ চলাকালীন। অর্থাৎ পিটিআইতে প্রশিক্ষণ চলাকালীন পিটিআই কর্তৃপক্ষ তাদের মূল্যায়ন করবে। প্রশিক্ষণের শেষ দিকে, অথবা প্রশিক্ষণ শেষে নেপ একটি প্রশ্নপত্র তৈরি করবে। সেই প্রশ্নের আলোকে প্রার্থীদের পরীক্ষা দিতে হবে।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, দুই ধাপের মূল্যায়ন শেষে প্রার্থীদের সামগ্রিক বিষয় মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হবে। এরপর মন্ত্রণালয় তাদের যোগদানের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
নেপ মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ বলেন, প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন, পরীক্ষা পদ্ধতিসহ যাবতীয় বিষয় নিয়ে একটি মডিউল তৈরি করা হয়েছে। এই মডিউল মন্ত্রণালয়ে সভার পর চূড়ান্ত হবে। মডিউল চূড়ান্ত হওয়ার আগে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়।
বিজ্ঞাপন
গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায়, পার্বত্য তিন জেলা বাদে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে একযোগে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এমসিকিউ পদ্ধতিতে নেওয়া ওই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী। পরে তাদের মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়।
এরপর গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে প্রাথমিকভাবে নিয়োগের জন্য নির্বাচন করা হয়। একইসঙ্গে জেলাভিত্তিক উত্তীর্ণদের তালিকাও প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞাপন
তবে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষাসহ সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেও এখনও যোগদান করতে পারেননি সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা। এতে দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী।
এই পরিস্থিতিতে গত এপ্রিলের শেষ দিকে রাজধানীতে আন্দোলনে নামেন সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। পরে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, প্রশিক্ষণ শেষে এসব প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হবে।








