Logo

২০২৭ পাঠ্যবইয়ে আসছে বড় পরিবর্তন, ফিরছে প্রকৃত ইতিহাস

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ মে, ২০২৬, ১২:১৭
২০২৭ পাঠ্যবইয়ে আসছে বড় পরিবর্তন, ফিরছে প্রকৃত ইতিহাস
ছবি: সংগৃহীত

আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ে ব্যাপক পরিমার্জন আনার উদ্যোগ নিয়েছেজাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এতে দীর্ঘদিনের তথ্যে থাকা বিচ্যুতি সংশোধন করে প্রকৃত ইতিহাস উপস্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

একই সঙ্গে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানসহ গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো নতুনভাবে পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করা হবে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এনসিটিবির চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী জানান, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী পাঠ্যবই পরিমার্জন এবং আধুনিক শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, অতীতে পাঠ্যবইয়ে যেসব ইতিহাসগত অসংগতি ছিল, সেগুলো বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে সংশোধন করা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন বীরের অবদানও সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হবে। পাশাপাশি ১৯৯০ সালের গণআন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

এনসিটিবি সূত্রে জানা যায়, মাধ্যমিক স্তরের বই পরিমার্জনের অংশ হিসেবে ৪ থেকে ৭ মে বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে চার দিনের কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ের বই পরিমার্জনের কাজও চলছে।

বর্তমানে ৯৭টি মাধ্যমিক এবং ৩৬টি প্রাথমিক বই সংশোধনের কাজ চলছে। এতে প্রায় ৩২০ জন বিশেষজ্ঞ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও অভিজ্ঞ শিক্ষক অংশ নিচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

পরিকল্পনা অনুযায়ী জুলাইয়ের মধ্যে কাজ শেষ করে মুদ্রণের প্রস্তুতি নেওয়া হবে। প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ইংরেজি ভার্সনসহ মোট ৬০১টি বই পরিমার্জন করা হবে।

নতুন শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে কয়েকটি নতুন বই যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। চতুর্থ শ্রেণিতে ‘খেলাধুলা ও সংস্কৃতি’ নামে একটি নতুন বই যুক্ত করা হবে, যা শিশুদের শারীরিক কার্যক্রম ও ডিজিটাল আসক্তি কমাতে সহায়ক হবে।

বিজ্ঞাপন

ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামে একটি বই চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এটি অন্যান্য শ্রেণিতেও সম্প্রসারণ করা হতে পারে।

এছাড়া কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে নতুন একটি বই যুক্ত করা হচ্ছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বইও নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

এনসিটিবি চেয়ারম্যান বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষার দিকে এগিয়ে নেওয়াই মূল লক্ষ্য। এতে বইয়ের সংখ্যা কিছুটা কমে ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব বাড়বে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, ২০২৮ শিক্ষাবর্ষে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনাও রয়েছে, যা একটি নতুন শিক্ষাক্রমে রূপ নিতে পারে। সবশেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ২০২৭ সালের শুরুতেই শিক্ষার্থীরা সংশোধিত, আধুনিক ও নির্ভুল পাঠ্যবই হাতে পাবে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD