Logo

যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয় ঠেকাতে প্রেমের নাটক-সিনেমা বন্ধ চেয়ে হাইকোর্টে রিট

profile picture
বিনোদন প্রতিবেদক
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৫:০৭
যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয় ঠেকাতে প্রেমের নাটক-সিনেমা বন্ধ চেয়ে হাইকোর্টে রিট
ছবি: সংগৃহীত

যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয় ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা রোধের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী করার লক্ষ্যে কেবল প্রেম ও রোমান্সনির্ভর সিনেমা ও নাটক নির্মাণ এবং সম্প্রচার বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) জনস্বার্থে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন।

রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়েছে, দেশের বর্তমান চলচ্চিত্র ও নাটক শিল্পে প্রেম এবং অতিরিক্ত রোমান্টিক বিষয়বস্তুর অবাধ সম্প্রচার সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এসব কনটেন্টের কারণে ধর্ষণ, পরকীয়া ও ব্যভিচার বাড়ছে—এমন অভিযোগও রিটে তুলে ধরা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রিটে আরও দাবি করা হয়, মূলধারার বিভিন্ন গণমাধ্যমে পরকীয়া, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, ব্যভিচার ও ধর্ষণের মতো বিষয় অনেক সময় স্বাভাবিক কিংবা মহিমান্বিত করে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এর ফলে যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার থেকে বিচ্যুত হচ্ছে এবং প্রচলিত নৈতিক কাঠামো দুর্বল হয়ে সামাজিক বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

আবেদনে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিভিন্ন গবেষণাধর্মী প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, লাগামহীন রোমান্টিক ও উসকানিমূলক সিনেমা তরুণদের মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে নারীর প্রতি সহিংসতা ও বিভিন্ন অপরাধ বৃদ্ধিতেও এসব কনটেন্ট ভূমিকা রাখতে পারে বলে রিটে দাবি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রিটকারীর আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন বলেন, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হলেও শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে আইনের মাধ্যমে যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ আরোপের সুযোগ রয়েছে। তার যুক্তি, জননৈতিকতা ক্ষুণ্ন করে এবং সামাজিক অপরাধে প্ররোচনা দেয়—এমন কনটেন্ট অবাধ সম্প্রচার সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের সুরক্ষা পেতে পারে না।

রিটে সংবিধানের ২৩ অনুচ্ছেদের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এতে জাতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইন, ২০২৩’-এর ৫(২) ও ৮(১) ধারার কথা তুলে ধরে রিটে বলা হয়েছে, পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষা এবং এর পরিপন্থি কনটেন্টের অনুমোদন বাতিল করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।

বিজ্ঞাপন

‘কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন, ২০০৬’-এর ১৯ ও ২০ ধারার বিষয়ও আবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। রিটে বলা হয়, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থি এবং যুবসমাজের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে এমন সম্প্রচার বন্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিবাদীরা তাদের আইনগত ও সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

রিটে শুধু প্রেমভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাণ ও সম্প্রচার বন্ধের নির্দেশনাই নয়, যুবসমাজের সৃজনশীলতা ও দেশপ্রেম বিকাশে বিজ্ঞান, শিক্ষা, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও প্রতিরক্ষাভিত্তিক চলচ্চিত্র এবং নাটক নির্মাণ ও সম্প্রচারের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।

এর আগে গত ২৭ আগস্ট একই বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে বিবাদীদের কাছে লিগ্যাল নোটিশ বা ডিমান্ডিং জাস্টিস নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। নোটিশের পরও কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নেওয়ায় জনস্বার্থ ও জাতীয় সংস্কৃতি রক্ষার উদ্দেশ্যে হাইকোর্টে রিটটি করা হয়েছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD