Logo

বাজারে নকল ও মানহীন কনডমের ছড়াছড়ি, হুমকির মুখে জনস্বাস্থ্য

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৫:৫১
বাজারে নকল ও মানহীন কনডমের ছড়াছড়ি, হুমকির মুখে জনস্বাস্থ্য
ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন বাজারে নকল ও মানহীন কনডমের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এটি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতির বিষয় নয়, বরং সরাসরি জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি তৈরি করছে।

বিজ্ঞাপন

কনডম মূলত যৌনসংক্রমণ প্রতিরোধ এবং অপ্রত্যাশিত গর্ভধারণ রোধে ব্যবহৃত হয়। তবে বাজারে অনুমোদনহীন বা নকল কনডমের উপস্থিতি ব্যবহারকারীদের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এসব কনডম সহজে ছিঁড়ে যেতে পারে, ফাঁপা হতে পারে অথবা সংক্রমণ প্রতিরোধে অক্ষম হতে পারে।

রাজধানীর তেজতুরী বাজারের এক ওষুধের দোকানে সন্ধ্যার সময় এক তরুণ কনডম কিনতে যান। কাউন্টারের নিচ থেকে দোকানি একটি প্যাকেট বের করে দেন। প্যাকেটের মোড়কে লেখা ছিল ‘ম্যান লাভ’, কিন্তু ভেতরের কনডমে নাম লেখা ছিল ‘এক্সপ্রেশন’। তিনটি কনডমের দাম মাত্র ১০ টাকা। সচেতন না থাকায় তরুণটি কিনে নেন, কিন্তু তিনি জানেন না, এটি তার স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনুমোদনহীন কনডমে ‘মাইক্রোলিকেজ’ বা অতিক্ষুদ্র ছিদ্র থাকা স্বাভাবিক। এর ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ এবং যৌনবাহিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। যৌনসংক্রামিত রোগ যেমন সিফিলিস, গনোরিয়া, ক্ল্যামাইডিয়া, জেনিটাল হার্পিস, জেনিটাল ওয়ার্টস এবং হেপাটাইটিস বি ও সি-এর সংক্রমণ বৃদ্ধির পেছনে অনিরাপদ কনডমও ভূমিকা রাখতে পারে।

দোকানি ও ব্যবসায়ীরা জানান, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ কম দামের কনডম কিনতে আগ্রহী। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কনডম এনে বিক্রি করেন। সস্তা হওয়ায় নকল ও অনুমোদনহীন কনডমের বিক্রি সহজ হয়। এই ধরনের কনডমের বিস্তার বিশেষ করে সীমান্তবর্তী ও প্রত্যন্ত এলাকায় দেখা যায়—কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, সাতক্ষীরা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও কক্সবাজারের সীমান্ত ঘেঁষা এলাকা।

পর্যটন কেন্দ্রগুলোতেও কম দামের কনডমের চাহিদা বেশি। কক্সবাজারের এক দোকানি জানান, পর্যটকরা মূলত কম দামের কনডম কিনে যান, যা সীমান্ত পার হয়ে মিয়ানমারেও পৌঁছে।

বিজ্ঞাপন

ডিজিডিএর পরিচালক মো. আকতার হোসেন বলেন, দেশে বর্তমানে ২৬ কোম্পানির ৫৭টি অনুমোদিত কনডম ব্র্যান্ড রয়েছে। অনুমোদিত কনডম ছাড়া অন্য কোনো কনডমের সরকারি অনুমোদন নেই। তবে বাজারে প্রায় ১৯০টি ব্র্যান্ড পাওয়া যায়, যার অন্তত ১৪০টি অনুমোদনহীন। অনুমোদিত কনডমের নিরাপত্তা ও মান পরীক্ষা করা হয় ল্যাবে, এবং বিদেশ থেকে আসা কনডমের জন্য ফ্রি সেল সার্টিফিকেট প্রয়োজন।

ঢাকা মেডিকেলের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সমরেশ চন্দ্র হাজরা বলেন, মানহীন কনডমে মাইক্রোলিকেজ থাকার সম্ভাবনা থাকে। এর ফলে এইচআইভি এবং অন্যান্য যৌনসংক্রমিত রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। কনডমের প্রতি আস্থা কমে গেলে দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়।

বিজ্ঞাপন

অনুমোদনহীন কনডম সাধারণত চীনসহ অন্যান্য দেশ থেকে পুরনো বা মেয়াদোত্তীর্ণ ল্যাটেক্স বা রাবার দিয়ে তৈরি হয়। পরে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা প্যাকেটজাত করে বাজারে ছড়িয়ে দেন। কম লুব্রিকেন্ট, নিম্নমানের রাবার এবং মাইক্রোলিকেজের কারণে এর কার্যকারিতা কমে যায়।

গত বছর ২০২৫ সালে দেশে নতুন করে ১,৮১৯ জন এইচআইভি আক্রান্ত হয়েছেন, যা ২০২৪ সালের ১,৪৩৮ জনের চেয়ে বেশি। এছাড়া গনোরিয়া ও ক্ল্যামাইডিয়ার সংক্রমণের হারও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।

দেশের বাজারে অনুমোদনহীন ও মানহীন কনডমের বিস্তার জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি পর্যবেক্ষণ এবং সচেতনতা মূলক প্রচার জরুরি, যাতে যৌনসংক্রামিত রোগের হার কমানো যায় এবং নিরাপদ যৌনাচরণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

জেবি/এএস
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD