Logo

ঢাকার বাইরে সাত বিভাগে ২০০ শয্যার মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ১৪:৪৭
ঢাকার বাইরে সাত বিভাগে ২০০ শয্যার মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন
ছবি: সংগৃহীত

মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবা সম্প্রসারণে ঢাকার বাইরে দেশের সাতটি বিভাগে ২০০ শয্যা বিশিষ্ট সাতটি মাদকাসক্ত নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ এ তথ্য জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, মাদক ব্যবহার এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো ব্যক্তির সমস্যা নয়; এটি একটি বড় জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক সংকটে পরিণত হয়েছে। এই বাস্তবতায় মাদকবিরোধী লড়াইকে কেবল আইনশৃঙ্খলা কার্যক্রম হিসেবে নয়, বরং একটি সামাজিক যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। সেই সঙ্গে পরিবার থেকেই প্রতিরোধ শুরু হওয়া জরুরি।

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে মাদক অপব্যবহারকারী ব্যক্তিদের সংখ্যা, ধরন ও সংশ্লিষ্ট কারণসমূহ’ শীর্ষক জাতীয় গবেষণার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

মো. হাসান মারুফ বলেন, বর্তমান সামাজিক বাস্তবতায় দেশের মানুষ ক্রমেই মাদকাসক্ত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। কিশোর ও তরুণরা সামাজিক অবক্ষয়, মানসিক চাপ এবং ভুল সঙ্গের কারণে সহজেই মাদকের দিকে ঝুঁকে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিকে অবহেলা করলে ভবিষ্যতে সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

ডিএনসি মহাপরিচালক আরও বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনসহ সমাজের সব স্তরের মানুষের অংশগ্রহণে একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। পরিবার থেকে প্রতিরোধ শুরু না হলে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ একা কার্যকর হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি জানান, দেশে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবার পর্যাপ্ত অবকাঠামো নেই। এই ঘাটতি পূরণে ঢাকার বাইরে সাতটি বিভাগে নতুন করে সাতটি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব কেন্দ্র চালু হলে বিভাগীয় পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা বাড়বে এবং মাদকাসক্তদের সমাজে পুনঃঅন্তর্ভুক্তি সহজ হবে।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, মাদক প্রতিরোধে রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং নির্ভরযোগ্য গবেষণার বিকল্প নেই। তিনি বলেন, মাদক সমস্যা শুধু কিছু মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ—এমন ধারণা ভুল। বাস্তবে সমাজের সবাই এবং আমাদের সন্তানরাও এই ঝুঁকির বাইরে নয়। এ সংকট মোকাবিলায় সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগ জরুরি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার বলেন, মাদক সমস্যার সমাধানে কেবল সরবরাহ বন্ধ করলেই হবে না, একই সঙ্গে চাহিদা কমানোর দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, অনেক শিশু ও তরুণ জীবনের সঠিক দিকনির্দেশনা পাওয়ার আগেই মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে প্রকাশিত গবেষণায় জানানো হয়, বর্তমানে দেশে আনুমানিক ৮২ লাখ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের অবৈধ মাদক ব্যবহার করছে, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪.৮৮ শতাংশ। গবেষণায় সিগারেট সেবনকে মাদক ব্যবহারের আওতায় ধরা হয়নি।

গবেষকেরা বলেন, মাদক সমস্যা এখন শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, এটি একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সংকট। প্রতিরোধের পাশাপাশি চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও সমাজে পুনঃঅন্তর্ভুক্তির ওপর সমান গুরুত্ব না দিলে এই সমস্যা আরও গভীর হবে। তারা মনে করেন, নতুন পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপন ও গবেষণার ফল বাস্তবায়িত হলে জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর মাদক নিয়ন্ত্রণ নীতি প্রণয়নে সহায়ক হবে।

জেবি/আরএক্স
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD