Logo

দেশে এইডস আক্রান্তের শীর্ষে সমকামীরা, ৮০ শতাংশই শিক্ষার্থী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১৯:২০
দেশে এইডস আক্রান্তের শীর্ষে সমকামীরা, ৮০ শতাংশই শিক্ষার্থী
ছবি: সংগৃহীত

দেশে বর্তমানে এইচআইভি/এইডস চিকিৎসায় থাকা রোগীর সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার ৫০০ জন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় এইডস/এসটিডি নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি এবং মাঠপর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, আক্রান্তদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সমকামীরা, যেখানে তরুণ ও শিক্ষার্থী জনগোষ্ঠীর উপস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বিজ্ঞাপন

প্রাপ্ত তথ্যে বলা হয়, আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক সমকামীরা, যাদের মধ্যে বড় অংশই তরুণ। এ গোষ্ঠীর প্রায় ৮০ শতাংশই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, যার মধ্যে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয় এবং এমনকি মেডিকেল শিক্ষার্থীরাও রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি হিসেবে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

বিজ্ঞাপন

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর আক্রান্তদের মধ্যে ২১ শতাংশের বয়স ১০ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে, ৩১ শতাংশের বয়স ২০ থেকে ২৪ বছর এবং প্রায় ৪৮ শতাংশের বয়স ২৫ বছরের বেশি। ফলে তরুণদের মধ্যে সংক্রমণের হার তুলনামূলকভাবে বেশি থাকায় প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

ঢাকায় এইচআইভি শনাক্তকরণে সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া যাচ্ছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)-এ। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর এখানে ২৯৩ জন নতুন রোগী শনাক্ত হন। চলতি বছরে প্রতি মাসে ২০০ থেকে ২৫০টি পরীক্ষা করা হচ্ছে, যার মধ্যে ২৮ থেকে ৩০ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এদের বড় অংশই ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের সঙ্গে যুক্ত।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শনাক্তকরণ কেন্দ্র হিসেবে রয়েছে রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল। এখানে ২৫ শয্যার বিশেষ ইউনিটে বর্তমানে ২২ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রতিদিন গড়ে ৬ থেকে ১০ জন নতুন রোগী এইডসজনিত জটিলতা নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসছেন। ২০২৫ সালে এখানে মোট ২ হাজার ৯২টি পরীক্ষার মধ্যে ২৭২ জন এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত হন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুণ রোগী রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

হাসপাতালটির পরামর্শক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. লিটন খান জানান, আগের সময়ে সংক্রমণের প্রধান ঝুঁকি ছিল যৌনকর্মী ও মাদক ব্যবহারকারীদের মধ্যে। তবে বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ আচরণে যুক্ত বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সংক্রমণের ধরন পরিবর্তিত হয়েছে এবং তরুণদের মধ্যে তা বেশি দেখা যাচ্ছে, যা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক।

ঢাকার বাইরে যশোরেও একই ধরনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল কেন্দ্রে বর্তমানে প্রায় সাড়ে তিন শতাধিক রোগী নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ১ হাজার ২৪১টি নমুনা পরীক্ষায় ১৮ জন নতুন রোগী শনাক্ত হন, যাদের মধ্যে ১২ জন ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত এবং তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশই শিক্ষার্থী।

এই কেন্দ্রের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সুদেব কুমার বিশ্বাস বলেন, আক্রান্তদের বড় একটি অংশ শিক্ষার্থী হওয়ায় বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তাদের সংক্রমণের কারণ ও প্রতিরোধ বিষয়ে নিয়মিত কাউন্সেলিং ও সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

জাতীয় কর্মসূচির সিনিয়র ম্যানেজার মো. আখতারুজ্জামান বলেন, বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর মধ্যে সংক্রমণের ধরণ সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হচ্ছে। একসময় প্রধান ঝুঁকিতে ছিলেন যৌনকর্মীরা, পরে মাদক ব্যবহারকারীদের মধ্যে সংক্রমণ বাড়ে, তবে এখন নতুনভাবে ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের কারণে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীতে সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউএনএইডস-এর ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে বর্তমানে প্রায় ৪ কোটি ৮ লাখ মানুষ এইচআইভি/এইডসে আক্রান্ত, যার মধ্যে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী উল্লেখযোগ্য অংশ হিসেবে রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশে এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধ কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চলমান। ১৯৮৫ সালে প্রতিরোধে জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়, আর দেশে প্রথম রোগী শনাক্ত হয় ১৯৮৯ সালে। পরবর্তীতে বেসরকারি পর্যায়ে ২০১০ সালে কার্যক্রম শুরু হয় এবং সরকারি কর্মসূচি আরও সম্প্রসারিত হয় ২০১৬ সাল থেকে। বর্তমানে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে বিভিন্ন পর্যায়ে সচেতনতা, পরীক্ষা ও চিকিৎসা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD