আজ বিশ্ব রোগী সুরক্ষা দিবস

আজ ১৭ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব রোগী সুরক্ষা দিবস। চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়ে রোগীর অনিচ্ছাকৃত ক্ষতি কমানো এবং নিরাপদ চিকিৎসাব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রতিবছর দিবসটি পালিত হয়।
বিজ্ঞাপন
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) হিসাবে, স্বাস্থ্যসেবা নিতে যাওয়া প্রতি ১০ জনের মধ্যে প্রায় একজন কোনো না কোনোভাবে ক্ষতির শিকার হন। অনিরাপদ স্বাস্থ্যসেবার কারণে বিশ্বে প্রতিবছর ৩০ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। এসব ক্ষতির অর্ধেকের বেশি প্রতিরোধ করা সম্ভব বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
২০১৯ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য পরিষদের সিদ্ধান্তের পর প্রথমবারের মতো বিশ্ব রোগী সুরক্ষা দিবস পালিত হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর ১৭ সেপ্টেম্বর দিবসটি পালন করা হচ্ছে।
এবারের গুরুত্ব অসংক্রামক রোগের চিকিৎসায়
বিজ্ঞাপন
এবার দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য ‘অসংক্রামক রোগের নিরাপদ চিকিৎসা’ এবং স্লোগান ‘জীবনের জন্য নিরাপদ সেবা’। দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে এবার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
হৃদরোগ, ক্যানসার, ডায়াবেটিস ও দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগের মতো অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় চিকিৎসকের পরামর্শ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন হয়। ফলে এসব রোগীর স্বাস্থ্যসেবাব্যবস্থার সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে সম্পৃক্ত থাকতে হয়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এই দীর্ঘ চিকিৎসাযাত্রায় রোগ নির্ণয়ে ভুল, ওষুধ ব্যবহারে ভুল, সংক্রমণ, চিকিৎসার বিভিন্ন পর্যায়ের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি কিংবা প্রয়োজনীয় সেবা পেতে বাধার মতো বিষয় রোগীর জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।
ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭৪ শতাংশ অসংক্রামক রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে এসব রোগের চিকিৎসায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
বিজ্ঞাপন
হাসপাতালের বাইরেও রয়েছে ঝুঁকি
রোগী সুরক্ষার বিষয়টি শুধু হাসপাতালের ভর্তি রোগীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেওয়ার সময়ও অনিচ্ছাকৃত ক্ষতির ঘটনা ঘটতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, প্রাথমিক ও বহির্বিভাগীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় চিকিৎসা নেওয়া প্রতি ১০ জনের মধ্যে সর্বোচ্চ চারজন পর্যন্ত কোনো না কোনো ক্ষতির শিকার হতে পারেন। এসব ঘটনার বড় অংশই প্রতিরোধযোগ্য।
বিজ্ঞাপন
ওষুধ ব্যবহারে ভুল, ভুল রোগ নির্ণয়, অনিরাপদ অস্ত্রোপচার, হাসপাতালে সংক্রমণ, রোগীর পরিচয় শনাক্তকরণে ভুল এবং অনিরাপদ রক্ত সঞ্চালন রোগী সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হয়।
নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে ঝুঁকি বেশি
রোগী সুরক্ষার ক্ষেত্রে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। ডব্লিউএইচওর বৈশ্বিক হিসাব অনুযায়ী, শুধু হাসপাতালগুলোতেই এসব দেশে প্রতিবছর আনুমানিক ১৩ কোটি ৪০ লাখ অনিচ্ছাকৃত ক্ষতির ঘটনা ঘটতে পারে।
বিজ্ঞাপন
রোগী সুরক্ষাসংক্রান্ত মোট ক্ষতির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশও এসব দেশে ঘটে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। সীমিত সম্পদ, স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামোগত ঘাটতি এবং বিভিন্ন পর্যায়ে সেবার সমন্বয়ের সমস্যাসহ নানা কারণে এ ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
নিরাপদ চিকিৎসায় প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ
রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু চিকিৎসকের ব্যক্তিগত সতর্কতার বিষয় নয়। এর সঙ্গে হাসপাতাল, চিকিৎসক, নার্স, ওষুধ ব্যবস্থাপনা, রোগ নির্ণয়, তথ্য সংরক্ষণ এবং পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার কার্যকারিতা জড়িত।
বিজ্ঞাপন
নিরাপদ ওষুধ ব্যবস্থাপনা, নির্ভুল রোগ নির্ণয়, সংক্রমণ প্রতিরোধ, স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ এবং রোগীর তথ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ—এসব ক্ষেত্রে সতর্কতা বাড়ানো গেলে চিকিৎসাজনিত ক্ষতির ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
একই সঙ্গে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত ও প্রক্রিয়ায় রোগী এবং স্বজনদের যথাযথভাবে সম্পৃক্ত করাও গুরুত্বপূর্ণ। রোগীকে তার চিকিৎসা, ওষুধ ও সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য দেওয়া নিরাপদ সেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার যেমন মানুষের মৌলিক প্রত্যাশা, তেমনি সেই চিকিৎসা নিরাপদ হওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি অসংক্রামক রোগের ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয় থেকে শুরু করে ওষুধ, পরীক্ষা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ—চিকিৎসার প্রতিটি ধাপে রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বিশ্ব রোগী সুরক্ষা দিবসের অন্যতম প্রধান বার্তা।








