ডেঙ্গু মোকাবিলায় কনটেন্ট নির্মাতাদের সাহায্য চায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়

ডেঙ্গু প্রতিরোধে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে এবার জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মীদের কাজে লাগাতে চায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। মানুষের দৈনন্দিন আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সৃজনশীল ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে দেশের শীর্ষস্থানীয় কনটেন্ট নির্মাতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যোগাযোগকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। সভায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে কনটেন্ট নির্মাতাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রচলিত সরকারি প্রচারণার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয় ও সহজবোধ্য কনটেন্টকে কাজে লাগিয়ে মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধের অভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা এবং আক্রান্ত হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার মতো বিষয়ে কার্যকর বার্তা ছড়িয়ে দিতে কনটেন্ট নির্মাতাদের সম্পৃক্ত করা হবে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় হাসপাতাল ও চিকিৎসাব্যবস্থাকে প্রস্তুত করার কাজ চলছে। প্রায় তিন হাজার চিকিৎসককে ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনা বিষয়ে রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্যালাইন সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় শয্যা প্রস্তুত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবরের শুরুর দিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে যেতে পারে।
তবে শুধু হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়িয়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কমানো সম্ভব নয় বলে মনে করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ জন্য মানুষের আচরণগত পরিবর্তনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনপ্রিয় কনটেন্ট নির্মাতাদের বক্তব্য সাধারণ মানুষের কাছে সহজে পৌঁছে যায়। ফলে একটি আকর্ষণীয় ও সঠিক তথ্যভিত্তিক কনটেন্টও ডেঙ্গু প্রতিরোধে মানুষকে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করতে পারে।
বিজ্ঞাপন
এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে আগামী তিন মাসের জন্য একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সভায় অংশ নেওয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোকে তাদের প্রাথমিক ধারণা ও কনটেন্ট পরিকল্পনা দ্রুত জমা দিতে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২০ থেকে ২৫ অক্টোবরের মধ্যে এসব কনটেন্টের ডিজিটাল প্রচার শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি সচেতনতামূলক বার্তার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় ও সৃজনশীল উপস্থাপনার মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা আরও বিস্তৃতভাবে মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা থাকবে।
এর আগে সরকার ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে তিন মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়ার কথা জানিয়েছে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীও এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সম্মিলিত জনসম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।








