Logo

আজ বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস : জেনে নিন ১০ ভুল ধারণা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৭
আজ বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস : জেনে নিন ১০ ভুল ধারণা
ছবি: সংগৃহীত

আজ ২৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস। ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য ‘স্ট্রংগার টুগেদার’। এবারের আয়োজনে মানুষ, প্রাণী ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে জলাতঙ্ক প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রোগটি অত্যন্ত ভয়ংকর হলেও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির পর দ্রুত ও সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া হলে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব। তবে জলাতঙ্ক নিয়ে মানুষের মধ্যে এখনো বেশ কিছু ভুল ধারণা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

১. কুকুর কামড়ালেই জলাতঙ্ক হয়

সব কুকুর জলাতঙ্কে আক্রান্ত নয়। তবে সন্দেহভাজন প্রাণীর কামড় বা আঁচড়কে অবহেলা করা উচিত নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মানুষের জলাতঙ্কের প্রায় ৯৯ শতাংশ সংক্রমণের সঙ্গে কুকুরের কামড় বা আঁচড় জড়িত। তাই ঝুঁকিপূর্ণ সংস্পর্শ ঘটলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

২. শুধু কামড়ের মাধ্যমেই জলাতঙ্ক ছড়ায়

বিজ্ঞাপন

শুধু কামড় নয়, আক্রান্ত প্রাণীর লালা ক্ষতস্থান, আঁচড় অথবা চোখ ও মুখের মতো মিউকাস মেমব্রেনে লাগলেও সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে অক্ষত ত্বকে শুধু চেটে দিলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে সেটিকে জলাতঙ্কের ঝুঁকিপূর্ণ সংস্পর্শ হিসেবে গণ্য করা হয় না।

৩. ছোট আঁচড় হলে জলাতঙ্কের টিকা প্রয়োজন নেই

এমন ধারণা সঠিক নয়। ত্বকে সামান্য আঁচড় বা ঘষা লাগলেও ঝুঁকি থাকতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ক্যাটাগরি II এক্সপোজারের ক্ষেত্রে দ্রুত ক্ষত পরিষ্কার করার পাশাপাশি জলাতঙ্কের টিকা দেওয়ার সুপারিশ রয়েছে। তাই আঁচড় ছোট দেখে নিজে থেকে চিকিৎসা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।

বিজ্ঞাপন

৪. ক্ষতস্থানে মরিচ বা অন্য কিছু লাগালে জীবাণু মারা যায়

এটি সম্পূর্ণ ভুল। কামড় বা আঁচড়ের জায়গায় মরিচ, গাছের রস, অ্যাসিড কিংবা ক্ষতিকর কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করা উচিত নয়। বরং আক্রান্ত স্থান দ্রুত সাবান ও পানি দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। জলাতঙ্ক প্রতিরোধে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক পদক্ষেপ।

৫. রক্ত না বের হলে জলাতঙ্কের ঝুঁকি থাকে না

বিজ্ঞাপন

রক্তপাত হওয়াই ঝুঁকি নির্ধারণের একমাত্র বিষয় নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ক্যাটাগরি II-এর মধ্যে এমন ছোট আঁচড় বা ঘষাও রয়েছে, যেখানে রক্তপাত নাও হতে পারে। তাই রক্ত না বের হলে জলাতঙ্কের আশঙ্কা নেই—এমন ধারণা ঠিক নয়।

৬. প্রাণীটিকে সুস্থ দেখালে টিকা নেওয়ার প্রয়োজন নেই

বাইরে থেকে কোনো সন্দেহভাজন প্রাণীকে সুস্থ মনে হলেও নিজের সিদ্ধান্তে চিকিৎসা বাদ দেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে জলাতঙ্কপ্রবণ এলাকায় প্রাণী পর্যবেক্ষণের অজুহাতে চিকিৎসা নিতে দেরি করা ঠিক নয়। প্রয়োজনীয় পোস্ট-এক্সপোজার প্রোফিল্যাক্সিস বা পিইপি দেওয়া হবে কি না, তা সংস্পর্শের ঝুঁকি মূল্যায়ন করে চিকিৎসক নির্ধারণ করেন।

বিজ্ঞাপন

৭. একবার জলাতঙ্কের টিকা নিলেই আজীবন সুরক্ষা পাওয়া যায়

এটিও ভুল ধারণা। সংস্পর্শের পর কী ধরনের টিকা এবং কত ডোজ প্রয়োজন হবে, তা ব্যক্তির আগে টিকা নেওয়ার ইতিহাস ও সংস্পর্শের ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া টিকার ডোজ কমানো বা মাঝপথে বন্ধ করা উচিত নয়।

৮. জলাতঙ্কের লক্ষণ দেখা দেওয়ার পরও মানুষ নিশ্চিতভাবে সুস্থ হয়

বিজ্ঞাপন

এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ধারণা। জলাতঙ্কের ক্লিনিক্যাল লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার পর রোগটি প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী। তবে সংস্পর্শের পর দ্রুত ক্ষত পরিষ্কার করা, প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়া এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে র‍্যাবিস ইমিউনোগ্লোবিউলিনসহ প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা গ্রহণ করলে রোগটি প্রতিরোধ করা সম্ভব।

৯. শুধু কুকুর থেকেই জলাতঙ্ক ছড়ায়

কুকুর মানুষের জলাতঙ্ক সংক্রমণের প্রধান উৎস হলেও একমাত্র উৎস নয়। আক্রান্ত বিভিন্ন স্তন্যপায়ী প্রাণীর কামড়, আঁচড় বা লালার সংস্পর্শ থেকেও ভাইরাস ছড়াতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাদুড়ের সংস্পর্শকেও গুরুতর এক্সপোজার হিসেবে বিবেচনা করে।

বিজ্ঞাপন

১০. কামড়ের পর কয়েক দিন অপেক্ষা করে চিকিৎসা নিলেও সমস্যা নেই

এমন অপেক্ষা ঝুঁকিপূর্ণ। সন্দেহভাজন প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের পর যত দ্রুত সম্ভব ক্ষত ধুয়ে চিকিৎসাকেন্দ্রে যেতে হবে। জলাতঙ্কের উপসর্গ দেখা দেওয়ার অপেক্ষা করা উচিত নয়। কারণ উপসর্গ শুরু হওয়ার আগেই পিইপি গ্রহণের মাধ্যমে সংক্রমণ প্রতিরোধের সুযোগ থাকে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD