আজ আন্তর্জাতিক তোতলামি সচেতনতা দিবস

তোতলামি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং এ সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের সহায়তায় উৎসাহিত করতে আজ ২২ অক্টোবর পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক তোতলামি সচেতনতা দিবস। কথা বলার সময় একই শব্দ বা শব্দাংশ বারবার বলা, শব্দ টেনে উচ্চারণ করা কিংবা কথা বলতে গিয়ে হঠাৎ আটকে যাওয়াকে তোতলামি বলা হয়। এটি একটি যোগাযোগজনিত সমস্যা, যা বিশ্বজুড়ে প্রতি ১০০ জনে প্রায় একজনের রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
১৯৯৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডে মাইকেল সুগারম্যানের উদ্যোগে দিবসটি পালনের সূচনা হয়। তোতলামি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি, এ বিষয়ে গবেষণায় উৎসাহ দেওয়া এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা দিবসটির প্রধান উদ্দেশ্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তোতলামির পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। বংশগত বৈশিষ্ট্য, শিশুর বিকাশের ধরন এবং মস্তিষ্কে কথা ও ভাষা প্রক্রিয়াকরণের পার্থক্য এর সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের তোতলামি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, এ সমস্যায় আক্রান্ত প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষের পরিবারের অন্য সদস্যেরও তোতলামির সমস্যা রয়েছে।
বিশ্বে ৮ কোটির বেশি মানুষ তোতলামির সমস্যায় ভুগছেন, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় এক শতাংশ। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৩০ লাখের বেশি। নারীদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে তোতলামির প্রবণতা প্রায় চার গুণ বেশি।
বিজ্ঞাপন
শিশুদের মধ্যেও তোতলামি দেখা যায়। প্রায় ৫ শতাংশ শিশু জীবনের কোনো এক পর্যায়ে অন্তত ছয় মাস এ সমস্যায় ভোগে। তাদের মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ পরবর্তী শৈশবে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে শুরু করে। তবে প্রায় এক শতাংশ মানুষের ক্ষেত্রে সমস্যাটি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
তোতলামি মানেই মানসিক বা আবেগজনিত সমস্যা নয়। শিশু কিংবা প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে তোতলামির সঙ্গে মানসিক জটিলতার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে—এমন প্রমাণ নেই। একইভাবে মানসিক আঘাতকেও তোতলামির কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।
শিশুর কথা বলার সময় তোতলামি দেখা দিলে শুরু থেকেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। সমস্যা তিন থেকে ছয় মাসের বেশি স্থায়ী হলে অথবা শুরু থেকেই তীব্রভাবে দেখা দিলে বাক্ ও ভাষা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। যথাযথ বাক্চিকিৎসার মাধ্যমে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক—উভয়েই কথা বলার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করতে পারেন।
বিজ্ঞাপন
তোতলামি নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করা, আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ নিশ্চিত করা, শিশুদের দ্রুত প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া এবং এ বিষয়ে গবেষণা এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে আন্তর্জাতিক তোতলামি সচেতনতা দিবস।
তথ্য সূত্র : আন্তর্জাতিক তোতলামি সচেতনতা দিবস, স্টাটারিং হেল্প অর্গানাইজেশন







