অনির্দিষ্টকালের জন্য সারাদেশে মোবাইল ফোনের দোকান বন্ধের ঘোষণা

ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালুর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারাদেশে মোবাইল ফোন ব্যবসা–সংক্রান্ত সব দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মোবাইল ব্যবসায়ীরা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছে মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি)।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে সংগঠনটির এক শীর্ষস্থানীয় নেতা গণমাধ্যমকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
এমবিসিবির প্রতিনিধি শামীম মোল্লা বলেন, মোবাইল আমদানির ক্ষেত্রে বিটিআরসি নির্ধারিত মাদার কোম্পানি, লোকাল ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল এনওসি প্রক্রিয়া জটিল এবং সময়সাপেক্ষ। এসব প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি আমদানিতে আরোপিত করহার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার দাবি জানান তারা। ব্যবসায়ীদের মতে, মোবাইল আমদানিতে মোট কর সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ হওয়া উচিত। একই সঙ্গে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন আমদানির জন্য আলাদা নীতিমালা প্রণয়নের দাবিও জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও জানান, এসব দাবির বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বিটিআরসি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। আলোচনার এক পর্যায়ে ব্যবসায়ীদের তিন মাস সময় দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, যাতে তারা বিদ্যমান মজুত ফোন বিক্রি করতে পারেন এবং পরে এনইআইআর কার্যকর করা হয়।
তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কর–সংক্রান্ত সমস্যার কোনো সমাধান ছাড়াই এনইআইআর চালু করা হয়েছে। শামীম মোল্লার দাবি, বিটিআরসি চেয়ারম্যান একাধিকবার কর ইস্যু নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এনইআইআর কার্যকর না করার আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। বৃহস্পতিবার সকালেও এ বিষয়ে আলোচনা হলেও পরে হঠাৎ করেই ব্যবস্থা চালু করা হয়।
এনইআইআর কার্যকর হওয়ার পর অনেক গ্রাহকের মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয় বলে জানান তিনি। পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে ব্যবসায়ীরা বিটিআরসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের চেষ্টা করলেও বৈঠক না হওয়ায় তারা বিকেলে সেখান থেকে সরে যান। পরে বিটিআরসি ভবনের পূর্ব পাশে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ব্যবসায়ীরা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে এলাকা ত্যাগ করেন।
বিজ্ঞাপন
এ ঘটনায় প্রায় ৪৬ জনকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেন শামীম মোল্লা। আটক ব্যবসায়ীদের মুক্তি এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করাও আন্দোলনের অন্যতম দাবি বলে জানান তিনি।
মোবাইল আমদানিতে শুল্ক কমানোর সাম্প্রতিক ঘোষণার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগে মোট করহার ছিল প্রায় ৬১ শতাংশ, যা কমিয়ে ৪৩ শতাংশ করা হয়েছে। তবে এই হারও এখনও অত্যন্ত বেশি এবং অন্যান্য খাতের তুলনায় অযৌক্তিক বলে দাবি করেন ব্যবসায়ীরা।
বিজ্ঞাপন
এমবিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দাবি আদায় এবং আটক ব্যক্তিদের মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত সারাদেশে মোবাইল ব্যবসা–সংক্রান্ত সব দোকান বন্ধ থাকবে। পরবর্তী কর্মসূচি পরিস্থিতি বিবেচনা করে ঘোষণা করা হবে।
উল্লেখ্য, অবৈধ ও অননুমোদিত মোবাইল হ্যান্ডসেটের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১ জানুয়ারি থেকে দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে এনইআইআর ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে। এর আওতায় দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত প্রতিটি ফোনের আইএমইআই নম্বর জাতীয় ডাটাবেইজে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।








