এআই যুগে টেক্কা দিতে অ্যাপলের মেগা প্ল্যান আইফোন ১৮!

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিকে ঘিরে স্মার্টফোন নির্মাতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা দিন দিন তীব্র হচ্ছে। গুগল, স্যামসাংসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান যখন তাদের ডিভাইসে উন্নত এআই সুবিধা যুক্ত করছে, তখন এই দৌড়ে আরও শক্ত অবস্থান নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে অ্যাপল।
বিজ্ঞাপন
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতের এআই অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করেই নতুন প্রজন্মের আইফোন ১৮ সিরিজে উল্লেখযোগ্য হার্ডওয়্যার পরিবর্তন আনতে পারে প্রতিষ্ঠানটি।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ডওয়াইড ডেভেলপারস কনফারেন্স (ডব্লিউডব্লিউডিসি) ২০২৬-এ অ্যাপল তাদের এআইভিত্তিক বিভিন্ন পরিকল্পনার আভাস দিয়েছে। নতুন প্রজন্মের সিরি, ব্যক্তিকেন্দ্রিক সহকারী সুবিধা এবং অন-ডিভাইস এআই প্রসেসিংকে আরও শক্তিশালী করতে উচ্চক্ষমতার হার্ডওয়্যার ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তার কথাও সামনে এসেছে।
বিজ্ঞাপন
প্রযুক্তিবিষয়ক একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আইফোন ১৮ সিরিজের প্রতিটি মডেলে ১২ জিবি র্যাম ব্যবহার করার বিষয়ে কাজ করছে অ্যাপল। যদি এ তথ্য সত্যি হয়, তাহলে স্ট্যান্ডার্ড সংস্করণও আগের তুলনায় অনেক বেশি এআই সক্ষমতা নিয়ে বাজারে আসবে।
বর্তমানে ধারণা করা হচ্ছে, আইফোন ১৭ সিরিজের বেশিরভাগ সংস্করণে ৮ জিবি র্যাম থাকবে। ফলে অ্যাপলের সবচেয়ে উন্নত এআই ফিচারগুলো ব্যবহার করার সুযোগ মূলত প্রো সিরিজ ও উচ্চমূল্যের ডিভাইসগুলোতেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। তবে আইফোন ১৮-এ র্যাম বৃদ্ধি করা হলে সাধারণ ব্যবহারকারীরাও উন্নত এআই সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যাপলের পরবর্তী প্রজন্মের এআই মডেলগুলো সিরিকে আরও বুদ্ধিমান ও কার্যকর করে তুলবে। ব্যবহারকারীর আচরণ বিশ্লেষণ, জটিল নির্দেশনা বোঝা, স্বয়ংক্রিয় কনটেন্ট তৈরি এবং ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে আরও নির্ভুলভাবে কাজ করার জন্য অধিক মেমোরি প্রয়োজন হবে। এ কারণেই র্যাম বৃদ্ধি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
বিজ্ঞাপন
তবে বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়। কারণ সম্প্রতি প্রকাশিত অন্য কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে অ্যাপল কিছু হার্ডওয়্যার উপাদানে সমন্বয় আনতে পারে। এমনকি র্যাম ও চিপসেটের ক্ষেত্রেও ব্যয় সাশ্রয়ী কৌশল গ্রহণের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে শেষ পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ড্রাম ও নান্দ মেমোরি চিপের দাম বৃদ্ধির ফলে স্মার্টফোন উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ছে। তবুও প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের ধারণা, এআইভিত্তিক ভবিষ্যৎ বাজারে নেতৃত্ব ধরে রাখতে চাইলে অ্যাপলকে শক্তিশালী হার্ডওয়্যার ব্যবহারের দিকেই এগোতে হবে। সেই বিবেচনায় ১২ জিবি র্যাম যুক্ত করা হলে আইফোন ১৮ সিরিজের অন্যতম বড় আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে।
বিজ্ঞাপন
প্রযুক্তি মহলে আরও গুঞ্জন রয়েছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরেই আইফোন ১৮ প্রো এবং আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স উন্মোচন করা হতে পারে। একই অনুষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা ফোল্ডেবল আইফোনও প্রকাশ করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও এসব বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি অ্যাপল।
বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতের স্মার্টফোন বাজারে এআই-নির্ভর অভিজ্ঞতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সেই বাস্তবতায় আইফোন ১৮ সিরিজকে নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনা করছে অ্যাপল। আর ১২ জিবি র্যাম যুক্ত হওয়ার খবর সত্য হলে এটি শুধু ডিভাইসের গতি নয়, ব্যবহারকারীদের এআই অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রেও নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে পারে।
সূত্র: গ্যাজেট ৩৬০








