Logo

এআই দিয়ে বাড়ছে সাইবার হামলা

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১৯:১৮
এআই দিয়ে বাড়ছে সাইবার হামলা
ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সক্ষমতা দ্রুত বাড়ার সঙ্গে সাইবার হামলার আশঙ্কাও নতুন মাত্রা পাচ্ছে। এআই ব্যবহার করে ভবিষ্যতে আরও দ্রুত, স্বয়ংক্রিয় ও জটিল সাইবার আক্রমণ পরিচালনা করা সম্ভব হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখনই প্রতিরোধব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে বিশ্বের প্রায় ১০০টি প্রতিষ্ঠান।

বিজ্ঞাপন

গুগল, মাইক্রোসফট, অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআইসহ প্রযুক্তি খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এ বিষয়ে একটি খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেছে। ব্যাংক, ফিনটেক এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও এতে যুক্ত হয়েছে।

খোলা চিঠিতে সতর্ক করা হয়েছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এআইনির্ভর সাইবার হামলার পরিমাণ ও জটিলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। প্রচলিত নিরাপত্তাব্যবস্থা দিয়ে এই নতুন ধরনের হুমকি মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষ করে হাসপাতাল, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনের তুলনায় কম অর্থ ও জনবল বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। ফলে এআইয়ের সক্ষমতা দ্রুত বাড়তে থাকলে এসব অবকাঠামো আরও বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সরকারগুলোর প্রতি প্রতিরক্ষামূলক কাজে ব্যবহারযোগ্য এআই সরবরাহ এবং নিয়মিত নিরাপত্তা পরীক্ষা চালানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক কয়েকটি সাইবার হামলার ঘটনাও এ ধরনের উদ্বেগকে আরও জোরালো করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, চীনভিত্তিক হ্যাকাররা মার্কিন সিনেট, নাসা, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং বিচার বিভাগের বিভিন্ন ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশ করেছে।

এআই ব্যবহারের মাধ্যমে প্রচলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার সক্ষমতার ঘটনাও সামনে এসেছে। ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক ও মেটার তৈরি বিভিন্ন এআই ব্যবস্থায় এমন আচরণের তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জুলাইয়ে ওপেনএআইয়ের কয়েকশ এআই এজেন্টকে নিয়ে পরিচালিত এক পরীক্ষায় দেখা যায়, তারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য গোপন বার্তা বিনিময়ের ব্যবস্থা তৈরি করতে পারে। পরে তারা সমন্বিতভাবে হাগিং ফেসের অবকাঠামোয় হামলা চালাতে সক্ষম হয়। ঘটনাটিকে বিশ্বের প্রথম এআই-চালিত সাইবার হামলা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

হাগিং ফেসও নতুন খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেছে। ওই ঘটনার তদন্তে প্রতিষ্ঠানটি চীনের জেডএআইয়ের তৈরি একটি এআই ব্যবস্থার সহায়তা নিয়েছিল বলে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে পানি ও পয়োনিষ্কাশন খাতের অন্তত সাতটি প্রতিষ্ঠান সাম্প্রতিক সময়ে সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। এসব ঘটনার পর দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তবে এআইনির্ভর নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় আরেকটি সমস্যা হলো অত্যাধুনিক ও শক্তিশালী এআই মডেলগুলো এখনো সবার জন্য সমানভাবে সহজলভ্য নয়। এ কারণে শক্তিশালী এআই তৈরি করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়িত্বশীলভাবে এসব প্রযুক্তির সুবিধা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশেষ করে পর্যাপ্ত অর্থ ও জনবল না থাকা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাইবার প্রতিরক্ষায় সহায়তা করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন গবেষকরা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করা গবেষক অ্যান্ড্রু ইউন আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, ভবিষ্যতে এআই ব্যবহার করে সাইবার হামলার নজিরবিহীন ঢেউ দেখা যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তবে শুধু প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করাই যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন তিনি। এআইয়ের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে যেসব প্রতিষ্ঠান, তাদেরও নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিজেদের ঘোষিত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে এআই নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দেশটির কয়েকজন সিনেটর ‘কিল সুইচ আইন’ নামে একটি প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে ঝুঁকিপূর্ণ এআই ব্যবস্থা বন্ধ করার ক্ষমতা কর্তৃপক্ষের হাতে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

নোবেলজয়ী প্রযুক্তিবিদ জিওফ্রি হিন্টনও এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্ক করেছেন। তার আশঙ্কা, কোনো পর্যায়ে এআই মানুষের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান হয়ে উঠলে এবং এর ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের কার্যকর উপায় বের করা সম্ভব না হলে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে পারে।

বিজ্ঞাপন

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর খোলা চিঠির মূল বক্তব্য হলো—এআইয়ের সক্ষমতা আরও বাড়ার আগেই সাইবার প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে হবে। কারণ আক্রমণ পরিচালনার প্রযুক্তি যে গতিতে এগোচ্ছে, সেই গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিরোধব্যবস্থা উন্নত করা না গেলে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও বৃহত্তর ডিজিটাল ব্যবস্থায় বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD