Logo

ঢাকার আরও ৫০ মোড়ে এআই সিগন্যাল, বাড়ছে নজরদারি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৪
ঢাকার আরও ৫০ মোড়ে এআই সিগন্যাল, বাড়ছে নজরদারি
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার যানজট নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক আইন মানানো এবং পথচারীদের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। পরীক্ষামূলকভাবে ১৩টি ইন্টারসেকশনে এই প্রযুক্তি চালুর পর এবার রাজধানীর আরও ৫০টি পয়েন্টে এআই ক্যামেরা ও আধুনিক সিগন্যাল ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নতুন ৫০টি সিগন্যাল পয়েন্টের মধ্যে ২৮টি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এবং ২২টি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় স্থাপন করা হবে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর তত্ত্বাবধানে তৈরি এই প্রযুক্তি এরই মধ্যে চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলার প্রবণতা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন ব্যবস্থার অন্যতম সুবিধা হলো—এটি পরিচালনার জন্য সার্বক্ষণিক আলাদা অপারেটরের প্রয়োজন হবে না। সড়কে যানবাহনের চাপ বিশ্লেষণ করে সিগন্যাল স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হবে। তবে প্রয়োজন হলে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা ট্যাব ব্যবহার করেও সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এআই-নির্ভর নজরদারির কারণে চালকদের আচরণেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন চালক। তাদের ভাষ্য, ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলে মামলা হওয়ার আশঙ্কা এবং ক্যামেরায় নজরদারির বিষয়টি অনেককে আরও সতর্কভাবে গাড়ি চালাতে উৎসাহিত করছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারাও প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিনের পুরোনো অভ্যাস বদলে মানুষকে সড়ক ব্যবস্থাপনার শৃঙ্খলার মধ্যে আনা সহজ নয়। তবে নতুন সিগন্যাল ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তবে মাঠপর্যায়ে প্রযুক্তিটির কিছু সীমাবদ্ধতাও সামনে এসেছে। ট্রাফিক কর্মকর্তাদের মতে, ফুটপাত দখল, নির্ধারিত স্থান ছাড়া পথচারীদের রাস্তা পারাপার এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহনের পাশাপাশি ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল এআই সিস্টেমের স্বাভাবিক কার্যক্রমে কখনো কখনো জটিলতা তৈরি করছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

নতুন প্রযুক্তির কার্যক্রম সার্বক্ষণিক সচল রাখতে অতিরিক্ত জনবল প্রস্তুতের কাজও চলছে। সিগন্যাল ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ, প্রযুক্তিগত তদারকি ও দ্রুত সমস্যা সমাধানের জন্য ট্রাফিক পুলিশের অধীনে ‘ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিট’ নামে বিশেষায়িত একটি ইউনিট গড়ে তোলা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সদস্যদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD