আইএসের বিরুদ্ধে তুরস্কজুড়ে ব্যাপক অভিযান, আটক ৩৫৭

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)–এর বিরুদ্ধে দেশব্যাপী ব্যাপক অভিযান চালিয়ে অন্তত ৩৫৭ জনকে আটক করেছে তুরস্কের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এসব অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
উত্তর-পশ্চিম তুরস্কে পুলিশের সঙ্গে এক বন্দুকযুদ্ধে তিন পুলিশ সদস্য ও ছয় জঙ্গি নিহত হওয়ার একদিন পর এই বড় পরিসরের অভিযান চালানো হয়।
বিজ্ঞাপন
তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলি ইয়েরলিকায়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, দেশের ২১টি প্রদেশে একযোগে আইএসবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সন্ত্রাসের মাধ্যমে যারা এই দেশকে নত করতে চায়, আমরা অতীতেও তাদের কোনো সুযোগ দিইনি, ভবিষ্যতেও দেব না।
এর আগে ইস্তাম্বুলের প্রসিকিউটর দপ্তর জানায়, ইস্তাম্বুলসহ আরও দুটি প্রদেশে ১১৪টি ঠিকানায় অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে সন্দেহভাজনদের আটক করার পাশাপাশি বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র জব্দ করা হয়।
বিজ্ঞাপন
সোমবার মারমারা সাগরের উপকূলে, ইস্তাম্বুলের দক্ষিণে ইয়ালোভা শহরের একটি বাড়িতে আট ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালায় পুলিশ। ওই অভিযানের সময় পুলিশের সঙ্গে জঙ্গিদের তীব্র সংঘর্ষ হয়। এতে আট পুলিশ সদস্য ও নিরাপত্তা বাহিনীর আরও একজন আহত হন।
বড়দিন ও নববর্ষকে সামনে রেখে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে এক সপ্তাহ আগেই ১০০ জনের বেশি সন্দেহভাজন আইএস সদস্যকে আটক করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় সোমবার ও মঙ্গলবার এই অভিযান আরও জোরদার করা হয়।
বিশ্বজুড়ে ইসলামিক স্টেটের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় চলতি বছর তুরস্কে গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে অন্যান্য দেশেও আইএসবিরোধী কার্যক্রম তীব্র হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, গত সপ্তাহে তারা উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়ায় আইএস সদস্যদের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়া চলতি মাসে অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডাই সৈকতে হনুক্কা অনুষ্ঠানে হামলায় জড়িত দুই বন্দুকধারী আইএস-অনুপ্রাণিত বলে দেশটির পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
গত ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী সিরিয়ায় আইএসের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়, যা মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার প্রতিশোধ হিসেবে চালানো হয়েছে বলে ওয়াশিংটন দাবি করেছে।
বিজ্ঞাপন
প্রায় এক দশক আগে তুরস্কে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে একাধিক ভয়াবহ হামলার জন্য ইসলামিক স্টেটকে দায়ী করা হয়েছিল। সে সময় ইস্তাম্বুলের একটি নাইটক্লাব ও প্রধান বিমানবন্দরে বন্দুক হামলায় কয়েক ডজন মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ চলাকালে আইএস সদস্যসহ বিভিন্ন বিদেশি যোদ্ধাদের জন্য তুরস্ক ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট, যা দেশটির নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ আরও জটিল করে তোলে।
সূত্র: রয়টার্স








