জাপানের ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্প, পরপর একাধিক কম্পন

জাপানের পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে বিস্তীর্ণ এলাকা। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে দেশটির সীমানে অঞ্চল ও পার্শ্ববর্তী তোত্তোরি জেলায় ৬.২ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পসহ একাধিক কম্পন অনুভূত হয়েছে। পরপর ভূমিকম্পে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বিজ্ঞাপন
জাপানের আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে প্রথমে ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর কিছুক্ষণ পরেই একই এলাকায় ৫.১ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এরপর আক্রান্ত অঞ্চলে একাধিক ছোট মাত্রার আফটার শক রেকর্ড করা হয়েছে।
ভূমিকম্পের পরপরই জরুরি সতর্কতা জারি করে জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানায়, এসব ভূমিকম্পের কারণে সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই। তবে তারা সতর্ক করে বলেছে, আগামী কয়েকদিন—বিশেষ করে পরবর্তী দুই থেকে তিন দিন—৫ মাত্রার বেশি শক্তির ভূমিকম্প আবারও আঘাত হানতে পারে।
বিজ্ঞাপন
সংস্থাটি আরও জানায়, যেসব এলাকায় ভূমিকম্পের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে, সেখানে ভূমিধস ও পাহাড় থেকে পাথর খসে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে পাহাড়ি অঞ্চল ও ঢালু এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে বাড়তি সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
এখন পর্যন্ত এই ভূমিকম্পে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। দেশটির দুটি আঞ্চলিক বিদ্যুৎ কোম্পানি জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর তাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো অস্বাভাবিকতা ধরা পড়েনি।
তবে ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থায়। কম্পনের কারণে কিছু সময়ের জন্য বুলেট ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। এছাড়া বিভিন্ন ভবনে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে ভূমিকম্পের তীব্র কম্পন ধরা পড়েছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
বিজ্ঞাপন
প্রসঙ্গত, জাপান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থান করায় দেশটিতে প্রায়ই মাঝারি থেকে শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়ে থাকে। আধুনিক অবকাঠামো ও আগাম সতর্কতা ব্যবস্থার কারণে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হলেও প্রতিটি ভূমিকম্পই নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করে।
ভূমিকম্প পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে জাপানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নতুন কোনো ঝুঁকি দেখা দিলে দ্রুত জনসাধারণকে জানানো হবে বলে জানিয়েছে তারা।








