বিক্ষোভকারীদেরকে ‘আল্লাহর শত্রু’ ঘোষণা করল ইরান, শাস্তি মৃত্যুদণ্ড

চরম অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে ইরানে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তীব্র সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে। রাজধানী তেহরান ছাড়িয়ে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে দেশের প্রায় সব প্রান্তে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে, বিক্ষোভকারীরা সরাসরি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পতনের দাবি তুলেছেন। কোথাও কোথাও জাতীয় পতাকা অবমাননার ঘটনাও ঘটেছে।
বিজ্ঞাপন
এই অস্থিরতার মধ্যে বিক্ষোভে বিদেশি মদদের অভিযোগ তুলেছে তেহরান। ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের পক্ষ থেকে আন্দোলনে সহায়তার কথা স্বীকার করার পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি করছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
এমন পরিস্থিতিতে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে গেল ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকার। দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি আজাদের দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণকারীদের ‘মোহারেব’ বা ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ইরানের আইনে মোহারেবদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।
বিজ্ঞাপন
বিবৃতিতে বলা হয়, সংবিধানের ১৮৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বা সংগঠিত অবস্থান নেয়, তাহলে তাদের সবাইকে মোহারেব ঘোষণা করা যেতে পারে।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর বর্তমান সময়কে ইরানের ইতিহাসের সবচেয়ে সংকটময় অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকার বিক্ষোভ দমাতে হিমশিম খাচ্ছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানীসহ প্রায় সব শহরে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
শনিবার থেকে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী এবং ইসলামিক রিপাবলিক গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মাঠে নামানো হয়েছে। ওইদিন রাতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে কয়েকজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
বিজ্ঞাপন
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান আন্দোলনের মূল কারণ ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয়। দীর্ঘদিন ধরে অবমূল্যায়নের ফলে ইরানি রিয়েল কার্যত বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রায় পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রায় ৯ লাখ ৯৪ হাজার রিয়েল লেনদেন হচ্ছে।
মুদ্রার এই অবনতির কারণে দেশটিতে লাগামছাড়া মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে। খাদ্য, চিকিৎসা, বাসস্থান ও পোশাকসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
বিজ্ঞাপন
এই পরিস্থিতিতে গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটের ডাক দেন। সেখান থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয় এবং কয়েক দিনের মধ্যেই তা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে ইরানের ৩১টি প্রদেশে। বর্তমানে এই আন্দোলনে দেশটির স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।








