অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে কাঁপছে ইরান, নেতৃত্বের আলোচনায় ফের রেজা পাহলভি

ইরানে জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন সরাসরি সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিচ্ছে। এই আন্দোলন আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের ক্ষমতাচ্যুত শাহ শাসনের উত্তরাধিকারী রেজা পাহলভি। তার এই আহ্বানের পর নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন তিনি—যাকে সমর্থকেরা ‘রাজপুত্র’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন।
বিজ্ঞাপন
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও মুদ্রার ভয়াবহ অবমূল্যায়নে সাধারণ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবীদের ক্ষোভ থেকেই প্রথমে বিক্ষোভ শুরু হলেও ধীরে ধীরে তা সরকার পতনের দাবিতে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ সীমিত করে দেয়।
বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, রেজা পাহলভির আহ্বানে বৃহস্পতিবার হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। তবে ইরান ইন্টারন্যাশনাল দাবি করেছে, বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় লাখের কাছাকাছি।
বিজ্ঞাপন
রেজা পাহলভি ইরানের শেষ শাহ মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভির পুত্র। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবে রাজতন্ত্র উৎখাতের পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসনে চলে যান। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি নিজেকে ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক ইরানের সমর্থক হিসেবে তুলে ধরছেন এবং বর্তমান শাসনব্যবস্থার কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত।
তবে রেজা পাহলভির ভূমিকা নিয়ে বিতর্কও কম নয়। তার বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি ইসরায়েলের ডানপন্থি রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে তার সাক্ষাতের ছবি দেশটির গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। এর আগে ২০২৩ সালে ইসরায়েল সফরে গিয়ে তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও বৈঠক করেছিলেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এই বিক্ষোভকে বিদেশি ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করেছেন। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানকে অস্থিতিশীল করতে এই আন্দোলনকে উসকে দিচ্ছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানালেও রেজা পাহলভিকে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব হিসেবে সরাসরি সমর্থন দেননি।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক আইন আমার দরকার নেই : ট্রাম্প
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে শাসন পরিবর্তন সহজ কোনো বিষয় নয়। দেশটির হাতে রয়েছে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড, যারা দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে কাজ করছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতে ইরান তার সামরিক সক্ষমতার প্রমাণও দিয়েছে।
অর্থনৈতিক দিক থেকে পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। বর্তমানে এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের মূল্য প্রায় ১৪ লাখ ৫০ হাজারে পৌঁছেছে, যেখানে এক বছর আগেও এই হার ছিল আট লাখের কিছু বেশি। আমদানি নির্ভর অর্থনীতিতে এই অবমূল্যায়নের প্রভাব সরাসরি পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনে।
বিজ্ঞাপন
বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনৈতিক সংকট বিক্ষোভের তাৎক্ষণিক কারণ হলেও মূল সমস্যা রাজনৈতিক। দীর্ঘদিনের জমে থাকা অসন্তোষ এখন প্রকাশ্যে এসেছে। এই আন্দোলন কতদূর গড়াবে কিংবা রেজা পাহলভি আদৌ কোনো কার্যকর রাজনৈতিক বিকল্প হয়ে উঠতে পারবেন কি না—তার উত্তর দেবে সময়ই।








