Logo

ট্রাম্প কি সংবিধান লঙ্ঘন করছেন? ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৪ মার্চ, ২০২৬, ১২:৪৫
ট্রাম্প কি সংবিধান লঙ্ঘন করছেন? ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেনি। তবে সাম্প্রতিক সামরিক হামলার প্রেক্ষাপটে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—এই পদক্ষেপগুলো কি কার্যত যুদ্ধের শামিল, নাকি সীমিত সামরিক অভিযান? একই সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংবিধান অনুযায়ী তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করছেন কি না।

বিজ্ঞাপন

সংবিধান কী বলছে?

মার্কিন সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১, ধারা ৮ অনুসারে যুদ্ধ ঘোষণা করার একচ্ছত্র ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত। অন্যদিকে অনুচ্ছেদ ২ অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক (কমান্ডার-ইন-চিফ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই দুই ধারার ব্যাখ্যা নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে—কোন পর্যায়ে প্রেসিডেন্ট একক সিদ্ধান্তে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারেন।

বিজ্ঞাপন

হ্যামলাইন বিশ্ববিদ্যালয়–এর রাজনৈতিক বিজ্ঞান ও আইন বিভাগের অধ্যাপক ড্যাভিড স্ক্যালজের মতে, এই সাংবিধানিক কাঠামোর সুযোগ নিয়ে আধুনিক প্রেসিডেন্টরা অনেক সময় সামরিক পদক্ষেপকে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ বা ‘জরুরি ব্যবস্থা’ হিসেবে চিহ্নিত করে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা ছাড়াই অভিযান পরিচালনা করেন।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, যুক্তরাষ্ট্র সর্বশেষ আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ–এর সময়। পরবর্তীতে ভিয়েতনাম যুদ্ধ কিংবা ইরাক যুদ্ধ–এর মতো বড় সংঘাতে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা ছাড়াই সামরিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

ওয়ার পাওয়ার রেজুলিউশন কী বলে?

বিজ্ঞাপন

প্রেসিডেন্টের একক সামরিক ক্ষমতার সীমা নির্ধারণে ১৯৭৩ সালে কংগ্রেস ওয়ার পাওয়ার রেজুলিউশন পাস করে। এই আইনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট কোনো সামরিক অভিযান শুরু করলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কংগ্রেসকে অবহিত করতে হবে এবং কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া সেই অভিযান সর্বোচ্চ ৬০ দিনের বেশি চলতে পারবে না।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কংগ্রেসকে ইরান-সংক্রান্ত হামলার বিষয়ে অবহিত করেছেন এবং দাবি করেছেন, ইরান থেকে আসা হুমকি সহনীয় সীমা অতিক্রম করায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যদিও মধ্যস্থতাকারী দেশ ওমানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, দুই পক্ষ সম্ভাব্য সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছিল।

বিজ্ঞাপন

এদিকে ডেমোক্র্যাট দলীয় আইনপ্রণেতারা হামলার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের আশঙ্কা, এই পদক্ষেপ ওয়ার পাওয়ার রেজুলিউশনের চেতনা লঙ্ঘন করতে পারে এবং কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে বড় ধরনের সামরিক সম্পৃক্ততার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

আক্রমণ নাকি যুদ্ধ?

ব্রিটিশ কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়–এর রাজনৈতিক বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক পল কুইরকের মতে, ‘আক্রমণ’ ও ‘যুদ্ধ’-এর মধ্যে পার্থক্য অনেক সময় নির্ভর করে অভিযানটির সময়কাল, তীব্রতা ও বিস্তৃতির ওপর।

বিজ্ঞাপন

তার ব্যাখ্যায়, যদি সামরিক পদক্ষেপ সীমিত ও স্বল্পমেয়াদি হয়, তাহলে সেটিকে আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। কিন্তু অভিযান যদি সপ্তাহ বা মাসজুড়ে চলতে থাকে এবং সংঘাতের মাত্রা বাড়তে থাকে, তাহলে বাস্তবে তা যুদ্ধে রূপ নিতে পারে—যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না-ও থাকে।

আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেনি। তবে চলমান হামলার পরিধি ও স্থায়িত্বই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে—এটি কেবল সীমিত সামরিক অভিযান, নাকি বাস্তব অর্থে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ।

সূত্র: আল-জাজিরা

বিজ্ঞাপন

জেবি/এসডি
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD