মিয়ানমারের নির্বাচনে জান্তাপন্থি দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ের দাবি

মিয়ানমারের সেনাশাসিত সরকারের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সংসদের নিম্নকক্ষের অধিকাংশ আসনে জয় পাওয়ার দাবি করেছে দেশটির সেনাপন্থি রাজনৈতিক দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি)।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দলটির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই দাবি করেছেন বলে জানিয়েছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি।
বিশ্বের বিভিন্ন গণতন্ত্র পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার মতে, এই নির্বাচন মূলত দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার একটি কৌশল। অনেক বিশ্লেষকই জান্তার আয়োজন করা এই ভোটকে বাস্তব প্রতিযোগিতাহীন ও পূর্বনির্ধারিত বলে আখ্যা দিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
স্বাধীনতার পর থেকে মিয়ানমারের ইতিহাসে সামরিক শাসনের প্রভাবই বেশি ছিল। অং সান সু চির নেতৃত্বে এক সময় গণতান্ত্রিক শাসনের সূচনা হলেও তা টেকেনি। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। এতে সু চির সরকার উৎখাত হয় এবং তাঁকে আটক করা হয়। সেই অভ্যুত্থানের পর থেকেই দেশটি ভয়াবহ গৃহসংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে।
ক্ষমতা দখলের চার বছরের বেশি সময় পর জান্তা সরকার ধাপে ধাপে জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করছে। তৃতীয় ও শেষ ধাপের ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে আগামী ২৫ জানুয়ারি। জান্তার দাবি, এই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
তবে সু চির আটক এবং তাঁর দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) বিলুপ্ত থাকায় গণতন্ত্রপন্থীদের অভিযোগ, বিরোধী মত দমন করে এই নির্বাচন সাজানো হয়েছে এবং সেনাবাহিনীর ঘনিষ্ঠ দল ইউএসডিপিকে বিজয়ী করতে ব্যালট ব্যবস্থাকে কাজে লাগানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
রোববার অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধাপের ভোটে ১০০টি আসনের মধ্যে ৮৭টি আসনে জয় পেয়েছে বলে ইউএসডিপির এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন। ফলাফল প্রকাশের অনুমতি না থাকায় তিনি নাম প্রকাশ না করে এএফপিকে এই তথ্য জানান।
প্রথম ধাপের ফলের সঙ্গে দ্বিতীয় ধাপের এই সংখ্যা যোগ হলে এখন পর্যন্ত নিম্নকক্ষে ইউএসডিপির মোট আসন দাঁড়ায় ১৭৬টি। নির্বাচনের মাধ্যমে নির্ধারিত ৩৩০টি আসনের মধ্যে এটি সংখ্যাগরিষ্ঠতার সামান্য বেশি। যদিও তৃতীয় ধাপের ভোট এখনও বাকি রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মিয়ানমারে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক টম অ্যান্ড্রুজ গত সপ্তাহে এক বিবৃতিতে বলেন, জান্তা কৌশলগতভাবে এই নির্বাচন আয়োজন করছে নিজেদের অনুগত প্রতিনিধিদের বিজয় নিশ্চিত করতে, সামরিক আধিপত্যকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং আন্তর্জাতিক বৈধতার ক্ষেত্র তৈরি করতে।
মিয়ানমারের নিম্নকক্ষে মোট ৪৪০টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে সংবিধান অনুযায়ী ১১০টি আসন সরাসরি সামরিক বাহিনীর জন্য সংরক্ষিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউএসডিপির বহু নেতা সাবেক সামরিক কর্মকর্তা হওয়ায় দলটিকে কার্যত সেনাবাহিনীর রাজনৈতিক শাখা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
আগামী মার্চে নতুন সংসদের অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তখন নিম্ন ও উচ্চকক্ষের সদস্যরা যৌথভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করবেন। জান্তা প্রধান মিন অং হ্লেইং সামরিক পদ ছেড়ে বেসামরিক নেতৃত্বে আসার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: এএফপি








