চীনের জন্মহার ইতিহাসের সর্বনিম্নে, জনসংখ্যা টানা চতুর্থ বছর হ্রাস

চীনে জন্মহার ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) প্রকাশিত সরকারি তথ্যে জানা গেছে, টানা চতুর্থ বছর দেশটির জনসংখ্যা কমেছে এবং সরকারের নানা পদক্ষেপের মধ্যেও এই পতনকে থামানো সম্ভব হয়নি। চীনা কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশটিতে জন্মেছে মাত্র ৭৯ লাখ ২০ হাজার শিশু, যা প্রতি হাজারে জন্মহার ৫.৬৩ হারে দাঁড়িয়েছে।
বিজ্ঞাপন
চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো (এনবিএস) ১৯৪৯ সাল থেকে জন্মহারের তথ্য সংরক্ষণ শুরু করে। সেই সময়ই গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের ঘোষণা দেন কমিউনিস্ট নেতা মাও সে-তুং। ১৯৪৯ সাল থেকে এটি চীনের সর্বনিম্ন জন্মহার।
বয়সের কাঠামোতে দ্রুত বৃদ্ধির কারণে চীনা সরকার বিয়ে ও সন্তান জন্মদানে উৎসাহ দিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে শিশু পরিচর্যা ভর্তুকি প্রদান, কনডমের ওপর কর আরোপসহ অন্যান্য উদ্দ্যোগ।
বিজ্ঞাপন
একসময় দেশের কঠোর ‘এক সন্তান নীতি’ বাতিল করা হলেও, গত এক দশক ধরে জন্মহার ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০২৪ সালে সামান্য ঊর্ধ্বগতি দেখা গিয়েছিল, যেখানে প্রতি হাজারে জন্ম হয়েছিল ৬.৭৭। ২০২৩ সালে দেশটিতে জন্ম হয়েছিল ৯০ লাখ ২০ হাজার শিশুর, প্রতি হাজারে জন্মহার ৬.৩৯।
শুধু জন্মহার নয়, চীনে বিয়ের হারও রেকর্ড সর্বনিম্নে নেমেছে। শিশু লালন-পালনের উচ্চ ব্যয় ও পেশাগত অনিশ্চয়তার কারণে তরুণ দম্পতিরা সন্তান নেওয়া থেকে বিরত থাকছেন।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালে চীনে মোট মৃত্যু হয়েছে ১ কোটি ১৩ লাখ ১০ হাজার, যা প্রতি হাজারে মৃত্যুহার ৮.৪ হারে পৌঁছেছে। এর ফলে জনসংখ্যা প্রতি হাজারে ২.৪১ হারে কমেছে, জানিয়েছে জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: এএফপি








