মধ্যপ্রাচ্যে কোন কোন দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আছে?

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। এই অঞ্চলে ১২টিরও বেশি দেশে স্থায়ী ও অস্থায়ী ঘাঁটিসহ জলসীমায় মোতায়েন রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ। এসব স্থাপনায় সামরিক ও বেসামরিক মিলিয়ে প্রায় ৪০ হাজার জন কাজ করেন। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজও মোতায়েন রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ হামলার পর এই ঘাঁটিগুলো ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে আসে। ২০২৫ সালের জুনে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পরই ইরান সতর্ক করে জানিয়েছিল, তারা প্রতিক্রিয়ার জন্য সব বিকল্প খোলা রাখছে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নতুন নয়। ইরাক যুদ্ধে তাদের সেনা সংখ্যা একসময় ১ লাখ ৬০ হাজার ছাড়িয়েছিল। আফগানিস্তানে যুদ্ধের সময়ও মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো ছিল। ইসরায়েল ও ইরানের উত্তেজনা এবং লোহিত সাগরে ইয়েমেনের হুথি হামলার কারণে এ অঞ্চলে তাদের উপস্থিতি আরও জোরদার করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
কমপক্ষে ১৯টি স্থানে মার্কিন সামরিক স্থাপনা রয়েছে। সৌদি আরব, বাহরাইন, মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক, ইসরায়েল, জর্ডান, কুয়েত, কাতার এবং সিরিয়ায় এই ঘাঁটিগুলো অবস্থিত।
কাতার:
কাতারের আল উদেইদ ঘাঁটিটি মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম মার্কিন ঘাঁটি। এখানে সেন্ট্রাল কমান্ড এবং বিমান বাহিনীর ফরওয়ার্ড হেডকোয়ার্টার রয়েছে। ৩৭৯তম এয়ার এক্সপিডিশনারি উইংও মোতায়েন রয়েছে। প্রায় ১০ হাজার সেনা কর্মরত।
বিজ্ঞাপন
বাহরাইন:
এ দেশে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম বহরের সদর দপ্তর ‘ন্যাভাল সাপোর্ট অ্যাক্টিভিটি’ অবস্থিত। এখানে প্রায় ৯ হাজার সেনা মোতায়েন। পঞ্চম ফ্লিটের পরিচালনায় পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর, আরব সাগর এবং পূর্ব আফ্রিকার উপকূলও অন্তর্ভুক্ত।
কুয়েত:
বিজ্ঞাপন
ক্যাম্প আরিফজান এবং আলী আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন রয়েছে। এখানে সেন্ট্রাল কমান্ডের হেডকোয়ার্টার, ৩৮৬তম এয়ার এক্সপিডিশনারি উইং এবং এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন রয়েছে। প্রায় ১৩,৫০০ সেনা এখানে কাজ করছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাত:
আল ধাফরা বিমানঘাঁটিতে ৩৮০তম এয়ার এক্সপিডিশনারি উইং মোতায়েন। এখানে ড্রোন এবং ১০টি বিমান স্কোয়াড্রন রয়েছে, যা গোয়েন্দা ও কম্ব্যাট এয়ার অপারেশনে ব্যবহার হয়।
বিজ্ঞাপন
ইরাক:
বর্তমানে প্রায় আড়াই হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন। প্রধান কার্যক্রম পরিচালিত হয় কুর্দিস্তানের আল আসাদ ও ইরবিল বিমান ঘাঁটি থেকে।
সিরিয়া:
বিজ্ঞাপন
আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই ও স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে যৌথ অভিযান পরিচালনা করতে প্রায় দুই হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে। ওয়াশিংটন সম্প্রতি সিরিয়ায় ঘাঁটিগুলো কমিয়ে দিয়েছে।
এই ঘাঁটিগুলো মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কৌশলগত প্রভাব ও প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা








