আলোচনায় রাজি ইসরায়েল, ‘প্রস্তুতিমূলক’ বৈঠক বলছে লেবানন

যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে লেবাননের সঙ্গে আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল। আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে দুই পক্ষের বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে লেবাননের পক্ষ থেকে এটিকে মূল আলোচনা নয়, বরং ‘প্রস্তুতিমূলক’ বৈঠক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
লেবাননের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠক কেবল আলোচনার প্রস্তুতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, এটি চূড়ান্ত সংলাপ নয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য আলোচনার মূল বিষয় হবে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা এবং হিজবুল্লাহর বিভিন্ন ইউনিটকে নিরস্ত্রীকরণ। পাশাপাশি ইসরায়েল জানিয়ে দিয়েছে, হিজবুল্লাহ যদি তাদের ওপর হামলা চালায়, তবে তারা পাল্টা আঘাত হানার অধিকার সংরক্ষণ করবে।
বিজ্ঞাপন
এর আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু লেবাননের সঙ্গে দ্রুত সরাসরি আলোচনায় বসার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে এবং এতে উভয় দেশই যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত তাদের রাষ্ট্রদূতদের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব করবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ২ মার্চ হিজবুল্লাহ সীমান্তে হামলা চালানোর পর থেকে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে বিমান হামলা ও স্থল অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন এবং জানান, তেহরান আলোচনার জন্য একটি ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ১,৭৩৯ জন নিহত এবং সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
এছাড়া ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরপরই লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়। মাত্র ১০ মিনিটে চালানো প্রায় ১০০টি বিমান হামলায় ২৫৪ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টার্ক। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলো এই হামলাকে অত্যন্ত নৃশংস বলে আখ্যা দিয়েছে।








