প্রশ্নফাঁসের প্রথম দিন থেকেই দায় স্বীকার করেছি: ধর্মেন্দ্র

ভারতের বহুল আলোচিত নীট-ইউজি (NEET-UG) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, প্রশ্নফাঁসের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার প্রথম দিন থেকেই তিনি এর নৈতিক দায় স্বীকার করেছিলেন এবং পুরো সংকট মোকাবিলায় দায়িত্ব এড়িয়ে যাননি।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (২৫ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ প্রকাশিত ওই খোলা চিঠিতে নিজের সিদ্ধান্তের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন তিনি।
চিঠিতে ধর্মেন্দ্র প্রধান উল্লেখ করেন, চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি শিক্ষা, শিক্ষার্থী এবং শিক্ষা সংস্কারের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তার বিশ্বাস, একটি শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ভবিষ্যতমুখী শিক্ষা ব্যবস্থাই একটি দেশের উন্নয়নের ভিত্তি। তবে ২০২৬ সালের ৩ মে অনুষ্ঠিত নীট-ইউজি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর সরকার তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিনি জানান, অভিযোগের তদন্তভার ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (সিবিআই)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। একই সঙ্গে পরীক্ষা বাতিল করে নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয় এবং আগামী বছর থেকে নীট-ইউজি পরীক্ষা কম্পিউটারভিত্তিক (CBT) পদ্ধতিতে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, সংকটের সময় সরকারের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য ছিল ২০ লাখেরও বেশি পরীক্ষার্থীর জন্য একটি স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু পরীক্ষা নিশ্চিত করা। কেন্দ্রীয় সরকার, বিভিন্ন রাজ্য সরকার, জেলা প্রশাসন, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় ২১ জুন পুনঃপরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শুরু থেকেই তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন। তার অঙ্গীকার ছিল, প্রশ্নফাঁস চক্রের কারণে যেন কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং কোনো পরীক্ষার্থী অন্যায়ের শিকার না হন। তার দাবি, ১৬ জুলাই প্রকাশিত নীট-ইউজি পরীক্ষার ফলাফলে বহু সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীও সাফল্য অর্জন করেছে।
চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, সংকট মোকাবিলার সময়ও কিছু দায়িত্বশীল ব্যক্তি শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন, যা তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের শক্তির ওপর তার অটুট আস্থা রয়েছে এবং দেশের তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা ও ভবিষ্যতের প্রতি তিনি সবসময় শ্রদ্ধাশীল।
বিজ্ঞাপন
ধর্মেন্দ্র প্রধানের ভাষায়, ভারতের যুবসমাজই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই তারা যেন বিভ্রান্তির রাজনীতির শিকার না হয়, সেটিই ছিল তার অন্যতম লক্ষ্য।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, জন্তরমন্তরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তা যেন রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি কোনোভাবে কাজে লাগাতে না পারে, দেশের ঐক্য যেন অক্ষুণ্ন থাকে এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যেন দীর্ঘ আইনি জটিলতায় আটকে না যায়—এসব বিষয় বিবেচনা করেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, আইনি জটিলতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার পরিবর্তে তাদের মনোযোগ পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার গঠনের দিকে থাকা উচিত। সেই লক্ষ্য থেকেই তিনি নিজের পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
চিঠির শেষ অংশে ধর্মেন্দ্র প্রধান প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সহকর্মী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কর্মজীবনে যাদের সঙ্গে কাজ করেছেন, তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, পদত্যাগ করলেও দেশের সেবা করার অঙ্গীকার থেকে তিনি সরে আসছেন না এবং ভবিষ্যতেও দেশের স্বার্থে কাজ করে যাবেন।








