Logo

বাংলাদেশি সন্দেহে পশ্চিমবঙ্গে মধ্যরাতে মুসলিমদের আটক করছে পুলিশ

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২১:৩৯
বাংলাদেশি সন্দেহে পশ্চিমবঙ্গে মধ্যরাতে মুসলিমদের আটক করছে পুলিশ
ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে মুসলিমদের বাড়িতে মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে আটক করে ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে। স্ক্রল ডট ইন এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুন থেকে অন্তত ৯ জন মুসলিম পুরুষ ও দুই শিশুকে এভাবে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অধিকাংশই মুর্শিদাবাদ জেলার বাসিন্দা।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, গভীর রাতে পুলিশ বাড়িতে গিয়ে তাদের স্বজনদের নিয়ে গেছে। এ সময় অনেক ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব প্রমাণের সুযোগ দেওয়া হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, আধার ও ভোটার কার্ডসহ বিভিন্ন নথি দেখানোর পরও সেগুলো আমলে নেওয়া হয়নি।

মুর্শিদাবাদের রামকান্তপুর গ্রামের ৬১ বছর বয়সী ইব্রাহিম শেখের পরিবারের অভিযোগ, ২৯ জুলাই রাত সাড়ে ১২টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি তাদের বাড়িতে যান। তারা ইব্রাহিমের পরিচয়পত্র দেখতে চান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি আধার ও ভোটার কার্ড দেখালেও পরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন পুলিশ জানায়, তাকে একটি ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।

ইব্রাহিমের পরিবারের পক্ষ থেকে কলকাতা হাইকোর্টে হেবিয়াস কর্পাস আবেদন করা হয়েছে। অন্যদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকারি নির্বাহী আদেশের নির্দেশিকা অনুসরণ করেই এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

একই প্রতিবেদনে উত্তর দিনাজপুর ও মুর্শিদাবাদের আরও কয়েকটি পরিবারের কাছ থেকে একই ধরনের অভিযোগ পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। একটি ঘটনায় জামিরুল শেখের পালিত ছেলে আবদুল জব্বারকে বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করার অভিযোগ রয়েছে। পরিবারের দাবি, জব্বারের দুই শিশুসন্তানকেও সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয়।

Scroll-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত চারজন সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-সংক্রান্ত যাচাই প্রক্রিয়া অতিক্রম করেছিলেন। ইব্রাহিম শেখের ক্ষেত্রে SIR-এ নাম বাদ পড়ার বিরুদ্ধে করা আবেদন এখনো সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।

বিজ্ঞাপন

আরেকটি ঘটনায় উত্তর দিনাজপুরের জলিল আখতারকে গত ১৯ জুন বাড়ি থেকে আটক করা হয়েছিল। তার পরিবার জানিয়েছিল, ২০০২ ও ২০২৬ সালের ভোটার তালিকায় তার নাম রয়েছে। পরে পুলিশ তাকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করেছিল বলে আদালতে দাখিল করা নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তবে ওই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। ১৫ সেপ্টেম্বর তিনি জামিনে মুক্তি পান।

মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীদের পক্ষ থেকে এ ধরনের আটকের আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অন্যদিকে, পুলিশ ও প্রশাসনের অবস্থান হলো, বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ফলে আটক ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব, আটক করার প্রক্রিয়া এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে।

সূত্র: স্ক্রল ডট ইন

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD