এবার লোহিত সাগর বন্ধের হুঁশিয়ারি দিল ইরান, বাড়ছে উত্তেজনা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এবার লোহিত সাগর বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, মার্কিন নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকলে পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের পাশাপাশি লোহিত সাগরেও বাণিজ্যিক পথ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড সেন্টারের প্রধান আলী আবদুল্লাহি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি অবরোধ চালু রাখে এবং ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে, তবে তা যুদ্ধবিরতির চুক্তি লঙ্ঘনের পূর্বাভাস হিসেবে বিবেচিত হবে।
আরও পড়ুন: ৫ লাখ অভিবাসীকে বৈধতা দিচ্ছে স্পেন
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনী পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর এবং লোহিত সাগরে কোনো ধরনের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চলতে দেবে না, যদি পরিস্থিতি অব্যাহতভাবে উত্তপ্ত থাকে।
এই হুঁশিয়ারি এমন সময় এলো, যখন সোমবার থেকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বন্দরগুলোতে জাহাজ চলাচলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অবরোধ কার্যকর হয়েছে। এ বিষয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, যেসব জাহাজ ইরানের বন্দরে যাতায়াত করছে না, সেগুলোর চলাচলে কোনো বাধা দেওয়া হবে না।
এদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে।
বিজ্ঞাপন
সোমবার জ্বালানি বাজার খোলার পর ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রায় ৭.৫ শতাংশ বেড়ে ১০২.৩৭ ডলারে পৌঁছে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড অয়েলের দামও ৮.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১০৪.৫৬ ডলারে দাঁড়ায়।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল উত্তেজনা দীর্ঘ হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বাড়বে। এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে নীতি পরিবর্তনের আলোচনা শুরু হয়েছে। আয়ারল্যান্ডে দেশব্যাপী বিক্ষোভের পর পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর কর কমানোর বিষয়েও জরুরি বৈঠক হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: এএফপি, বিবিসি








