কাঠমান্ডুতে অবতরণের সময় হঠাৎ টার্কিশ বিমানে আগুন

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় টার্কিশ এয়ারলাইনসের একটি যাত্রীবাহী বিমানে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বিমানটির সব যাত্রী ও ক্রুকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। খবর আল জাজিরা।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (১১ মে) সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিমানবন্দর সূত্র জানায়, অবতরণের সময় হঠাৎ বিমানের চাকায় আগুন দেখা দেয়। এতে মুহূর্তেই যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে পাইলট দক্ষতার সঙ্গে বিমানটি রানওয়েতে অবতরণ করাতে সক্ষম হন।
আরও পড়ুন: মিয়ানমারে ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল বাংলাদেশ
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টার্কিশ এয়ারলাইনসের টিকে-৭২৬ ফ্লাইটটি তুরস্কের ইস্তাম্বুল থেকে কাঠমান্ডুর উদ্দেশে ছেড়ে আসে। রাতভর যাত্রার পর সোমবার ভোরে বিমানটি নেপালের আকাশসীমায় পৌঁছায়। অবতরণের ঠিক সময়েই বিমানের ল্যান্ডিং গিয়ারে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানা গেছে।
বিজ্ঞাপন
বিমানটিতে মোট ২৭৮ জন যাত্রী এবং ১১ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিমানবন্দরের জরুরি সেবা বিভাগ দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠে। দমকলকর্মীরা অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে যাত্রীদের নিরাপদে বিমান থেকে নামিয়ে আনা হয়। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কী কারণে বিমানের চাকায় আগুন লেগেছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অতীতেও বিভিন্ন দুর্ঘটনা ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে ২০১০ সালের পর থেকে নেপালে একাধিক বড় বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে। গত বছরও কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে একটি উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে।
বিজ্ঞাপন
বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্রিভুবন বিমানবন্দরকে তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ বিমানবন্দর হিসেবে ধরা হয়। এটি একটি ‘টেবল টপ’ বিমানবন্দর। অর্থাৎ, বিমানবন্দরটির রানওয়ে আশপাশের ভূমি থেকে উঁচু স্থানে অবস্থিত এবং এক বা একাধিক পাশে খাড়া ঢাল রয়েছে। এ ধরনের বিমানবন্দরে অবতরণ ও উড্ডয়ন পাইলটদের জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে থাকে। আবহাওয়া, পাহাড়ি পরিবেশ এবং সীমিত রানওয়ের কারণে এখানে সামান্য ভুলও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।








