Logo

যে কারণে বিশ্ববাজারে ফের বাড়ছে জ্বালানির দাম

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৮ মে, ২০২৬, ১৩:০০
যে কারণে বিশ্ববাজারে ফের বাড়ছে জ্বালানির দাম
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় বিশ্ববাজারে আবারও জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করতে পারেন এমন আশঙ্কার পর আন্তর্জাতিক তেলবাজারে অস্থিরতা বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (১৮ মে) ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের ফিউচার মূল্য ২ দশমিক শূন্য ১ ডলার বা ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১১ দশমিক ২৭ ডলারে পৌঁছেছে। দিনের শুরুতে দাম ১১২ ডলারের কাছাকাছি উঠে যায়, যা ৫ মে’র পর সর্বোচ্চ অবস্থান। পরে কিছুটা কমলেও উচ্চমূল্যেই স্থির থাকে বাজার।

অন্যদিকে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৭ দশমিক ৭৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এটি ২ দশমিক ৩৩ ডলার বা ২ দশমিক ২১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে দাম বেড়ে ১০৮ দশমিক ৭০ ডলারে পৌঁছায়, যা ৩০ এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জুন মাসের চুক্তির মেয়াদ মঙ্গলবার শেষ হওয়ার কথাও জানিয়েছে বাজার সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির আশপাশে জাহাজে হামলা ও জব্দের ঘটনা বন্ধে শান্তি চুক্তির আশা দুর্বল হয়ে পড়ায় গত সপ্তাহে উভয় বেঞ্চমার্কের দামই ৭ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়, যেখানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের আলোচনাও সংঘাত নিরসনে কোনো ইঙ্গিত দিতে পারেনি।

এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে ড্রোন হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আইজি’র বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেছেন, এসব ড্রোন হামলা স্পষ্ট সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে-ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের নতুন হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা বাড়তে পারে।

আমিরাতের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার উৎস তদন্ত করা হচ্ছে এবং এটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে জবাব দেয়ার অধিকার সংযুক্ত আরব আমিরাতের রয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

তেল বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ভান্ডা ইনসাইটসের প্রতিষ্ঠাতা বন্দনা হরি বলেন, ইরানের ওপর নতুন হামলার আশঙ্কায় সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা মওকুফের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

এছাড়া তেলের দামে নতুন প্রভাব ফেলেছে ট্রাম্প প্রশাসনের আরেক সিদ্ধান্ত। এক মাস মেয়াদি নিষেধাজ্ঞা ছাড়ের সময়সীমা শেষ হওয়ায় ভারতসহ কয়েকটি দেশ এখন সমুদ্রপথে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির সুযোগ হারিয়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, ইরাকের আকাশসীমা থেকে আসা তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। দেশটি সতর্ক করে বলেছে, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা লঙ্ঘনের যেকোনো চেষ্টার জবাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ইরান ইস্যুতে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাব্য বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করতে মঙ্গলবার শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD