তৃণমূল কংগ্রেসের আরেক সংসদ সদস্যের ওপর হামলা

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জীর ওপর হামলার ঘটনার একদিন না পেরোতেই পশ্চিমবঙ্গে দলটির আরেক সংসদ সদস্য কল্যাণ ব্যানার্জী হামলার শিকার হয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (৩১ মে) সকালে হুগলি জেলার চণ্ডীতলায় একটি কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে তিনি এই হামলার মুখে পড়েন।
ঘটনাস্থল থেকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ভিড় নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যরা ব্যস্ত থাকার সময় হঠাৎ মাথায় আঘাত পান কল্যাণ ব্যানার্জী। আঘাত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি মাথা চেপে ধরে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে ঘিরে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন।
বিজ্ঞাপন
শ্রীরামপুরের সংসদ সদস্য কল্যাণ ব্যানার্জীকে কালো পতাকা দেখানো হয় এবং ‘চোর চোর’ স্লোগান দেওয়া হয়। আগের দিন দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে অভিষেক ব্যানার্জীর বিরুদ্ধেও একই ধরনের বিক্ষোভ দেখা গিয়েছিল।
তবে কল্যাণ ব্যানার্জী দাবি করেছেন, এটি স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষ নয়। তার অভিযোগ, এর পেছনে রয়েছে বিজেপি। যদিও এ বিষয়ে বিজেপির তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পোস্ট-পোল সহিংসতার অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় থানায় স্মারকলিপি জমা দিতে রোববার সকালে চণ্ডীতলায় যান কল্যাণ ব্যানার্জী ও তার সমর্থকেরা। এ সময় একটি ট্রাকের পাশ দিয়ে হাঁটার সময় হঠাৎ পেছন থেকে কোনো বস্তু এসে তার মাথায় আঘাত করে।
বিজ্ঞাপন
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভিডিওতে দেখা যায়, আঘাত পাওয়ার পর তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে পুলিশ তাকে ঘিরে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। কিছু সময় পর তিনি উঠে দাঁড়ালেও ভারসাম্য রাখতে পারছিলেন না। পরে মাথায় সাদা কাপড় বেঁধে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন।
তিনি দাবি করেন, তার মাথায় ক্রিকেট বল অথবা পাথর ছোড়া হয়েছিল। তিনি ঘটনাটিকে হত্যাচেষ্টা বলে উল্লেখ করে বিজেপিকে দায়ী করেন।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, যানজটের কারণে গাড়ি রেখে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় ১০-১৫ জন ব্যক্তি স্লোগান দিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করে এবং গালাগাল শুরু করে। এরপর তার মাথা লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, আমার কুর্তা ও পাজামায় রক্ত লেগে যায়। আমি রাস্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। তখন কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক সদস্য এসে আমাকে উদ্ধার করেন।
কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে নীরব দর্শক বলে সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে এবং তৃণমূল নেতাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
এর একদিন আগে সোনারপুরে পোস্ট-পোল সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত দলীয় কর্মীদের দেখতে গিয়ে হামলার মুখে পড়েন অভিষেক ব্যানার্জী। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর ভাতিজা অভিষেককে ঘিরে বিক্ষোভকারীরা ধাক্কাধাক্কি করে, ডিম ও পাথর নিক্ষেপ করে এবং ‘চোর চোর’ স্লোগান দেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে ক্রিকেট হেলমেট পরিয়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। পরে তাকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানান, তার আঘাত গুরুতর নয়।
মমতা দাবি করেন, হেলমেট না থাকলে অভিষেকের প্রাণহানিও ঘটতে পারতো। তিনি ও অভিষেক দুজনই হামলার জন্য বিজেপিকে দায়ী করেন।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে বিজেপি এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দলটির দাবি, এটি কোনো রাজনৈতিক হামলা নয়; বরং দীর্ঘদিনের শাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ।








