ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ দাবদাহে স্পেনে ৪ দিনে মৃত্যু ২১২ জনের

ইউরোপজুড়ে চলমান রেকর্ডভাঙা দাবদাহে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি স্পেন। দেশটিতে মাত্র চার দিনের ব্যবধানে তাপপ্রবাহজনিত কারণে ২১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
স্পেনের সরকারি মৃত্যু পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা ‘মোমো’র তথ্য অনুযায়ী, গত রবিবার থেকে বুধবার পর্যন্ত এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সংস্থাটি দৈনিক মৃত্যুর তথ্য সংগ্রহ করে স্বাভাবিক সময়ের মৃত্যুহারের সঙ্গে তুলনা করে অতিরিক্ত মৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণ করে। এ কাজে আবহাওয়াসহ বিভিন্ন বাহ্যিক উপাদান বিবেচনায় নেওয়া হয়। জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা এইমেটের তথ্যও বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
মোমোর পরিসংখ্যান বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা স্পেনে এর আগে ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে রেকর্ড তাপপ্রবাহ দেখা গিয়েছিল। ওই বছরের জুন মাসের একই সময়সীমায় অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৯৮ জন, যা এবারের তুলনায় অনেক কম।
বিজ্ঞাপন
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১৬ মে থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গরমজনিত কারণে দেশটিতে ৩ হাজার ৮৩২ জনের মৃত্যু হয়েছিল। যা ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৮৮ শতাংশ বেশি।
চলতি সপ্তাহে স্পেনের মূল ভূখণ্ডে ১৯৫০ সালের পর জুন মাসের সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রার রেকর্ড তৈরি হয়েছে। সোমবার গড় তাপমাত্রা ছিল ২৮ দশমিক ০৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা মঙ্গলবার বেড়ে দাঁড়ায় ২৮ দশমিক ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
এছাড়া এই দুই দিনে জুন মাসের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গড় সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ডও ভেঙেছে। সোমবার রাতের গড় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২০ দশমিক ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং মঙ্গলবার ছিল ১৯ দশমিক ৮১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন উষ্ণ রাত মানুষের স্বাভাবিক ঘুম ব্যাহত করে এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলে।
বিজ্ঞাপন
তীব্র গরমের কারণে উত্তর স্পেনের কান্তাব্রিয়া ও বাস্ক কান্ট্রিসহ কয়েকটি অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়। সাধারণত এসব এলাকায় এত বেশি তাপমাত্রা দেখা যায় না। তবে এবার কিছু স্থানে পারদ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও ওপরে উঠে গেছে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ সীমান্তে নিহত বিএসএফ সদস্য
যদিও উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকায় এখনো হলুদ সতর্কতা বহাল রয়েছে, তবে বৃহস্পতিবারের মধ্যে অধিকাংশ আবহাওয়া সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: এএফপি








