ভেনেজুয়েলায় উদ্ধার অভিযানে অংশ নিচ্ছে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল

ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো মাঠে নেমেছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ২৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
বিজ্ঞাপন
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তাবিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার বলেছেন, ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা মানুষদের কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গত বুধবার আঘাত হানা ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্পকে গত এক শতাব্দীর মধ্যে ভেনেজুয়েলার অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর কম্পন আশপাশের অঞ্চলগুলোতেও অনুভূত হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার স্বাস্থ্যমন্ত্রী কার্লোস আলভারাডো জানান, ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৩৫ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন প্রায় ৪ হাজার ৩০০ জন। হাসপাতালগুলোতে আহতদের চাপ বাড়ছে এবং এখনও শত শত মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে রয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী কারাকাসের উত্তরের উপকূলীয় রাজ্য লা গুয়াইরা। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলো জানিয়েছেন, সেখানে শতাধিক ভবন ধসে পড়েছে এবং প্রায় ৭০ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে ওই অঞ্চলের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
রাজধানী কারাকাসেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভবন ধসের আশঙ্কায় অনেক মানুষ ঘরে ফিরতে না পেরে খোলা জায়গা ও ব্যক্তিগত গাড়িতে রাত কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় সাংবাদিক মারিয়া এমিলিয়া মিরো কুয়েসাদা আল জাজিরাকে বলেন, ভবনগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে মানুষের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ রয়েছে। এ কারণে অনেকেই এখনও বাড়িতে ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না।
বিজ্ঞাপন
উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও জোরদার হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র উদ্ধার সরঞ্জাম, যুদ্ধজাহাজ, পরিবহন বিমান, হেলিকপ্টার এবং ১৫০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্যাকেজের ঘোষণা দিয়েছে।
এ ছাড়া ব্রাজিল একটি ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল ও অগ্নিনির্বাপক দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এল সালভাদর ৩০০ উদ্ধারকর্মী ও ৫০ টন সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে। কিউবার স্বাস্থ্যকর্মীরা ইতোমধ্যে চিকিৎসা ও উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি তুরস্ক, স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস এবং চেক প্রজাতন্ত্রও উদ্ধারকারী দল, প্রশিক্ষিত কুকুর, ত্রাণসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা








