চিন্ময় কৃষ্ণের পক্ষে মন্তব্য করায় কলকাতার ইসকন মুখপাত্র বহিষ্কার

বাংলাদেশে কারাবন্দি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়া এবং বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর কথিত নির্যাতন নিয়ে মন্তব্য করায় আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের (ইসকন) কলকাতা শাখার সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাধারমণ দাসকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (২৮ জুন) নেওয়া এ সিদ্ধান্তের ফলে তাকে সংগঠনের সব ধরনের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গণমাধ্যম, সরকারি সংস্থা কিংবা জনসমক্ষে ইসকনের প্রতিনিধিত্ব করতেও নিষেধ করা হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রকাশ্য মন্তব্য করাই এ সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ।
ভারতীয় বার্তা সংস্থা ইউএনআই জানায়, রাধারমণ দাস সংগঠনের এই শৃঙ্খলামূলক সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
বিজ্ঞাপন
রবিবার এক বিবৃতিতে রাধারমণ দাস নিজেই তার অপসারণের পেছনে উল্লেখ করা ছয়টি কারণ তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন নিয়ে বক্তব্য এবং বাংলাদেশে ইসকন থেকে বহিষ্কৃত চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন।
এ ছাড়া ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মানেকা গান্ধীকে আইনি নোটিশ পাঠানো, কৌতুকশিল্পী সুরলীন কৌরের বিরুদ্ধে সাইবার অভিযোগ দায়ের, সনাতন ধর্মের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়া এবং ১৯৭৬ সালে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত রথযাত্রার সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পৃক্ততা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট শেয়ার করার বিষয়ও ওই তালিকায় রয়েছে।
তবে ইসকনের একটি সূত্রের দাবি, মূলত বাংলাদেশের এক সন্ন্যাসীকে ঘিরে প্রকাশ্যে মন্তব্য করার কারণেই তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের সরকারি স্কুলে নিরামিষভিত্তিক মধ্যাহ্নভোজ চালুর পাইলট প্রকল্পের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন রাধারমণ দাস। কলকাতায় ইসকনের প্রস্তুত করা খাবার সরবরাহের সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়, বিশেষ করে খাবারের তালিকায় ডিম না রাখার বিষয়টি নিয়ে।
এ সময় তিনি দাবি করেন, ভাত, ডাল, খিচুড়ি, সবজি, সয়াবিন, রাজমা, পনির ও ছোলার মতো খাবার থেকেই পর্যাপ্ত প্রোটিন পাওয়া সম্ভব। তবে ইসকন সূত্র জানিয়েছে, ডিম ও সয়াবিনের তুলনা টেনে তার দেওয়া এই ব্যাখ্যাকে সংগঠন ইতিবাচকভাবে নেয়নি। এছাড়া নিরামিষ খাদ্য নিয়ে এত বিস্তারিতভাবে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ারও কোনো অনুমোদন ছিল না।
বিজ্ঞাপন
সংগঠনের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে রাধারমণ দাস বলেন, গত কয়েক বছরে তিনি যে ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়েছেন, তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে ইসকনের ধারাবাহিক অগ্রগতি ও সাফল্য কামনা করেন তিনি।
সূত্র: ইউএনআই








