Logo

অণ্ডকোষ বিক্রির প্রলোভন, কোটি টাকা আয়ের লোভে কিশোরকে হত্যা

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১৯:০২
অণ্ডকোষ বিক্রির প্রলোভন, কোটি টাকা আয়ের লোভে কিশোরকে হত্যা
ছবি: সংগৃহীত

ইনস্টাগ্রামে ছড়িয়ে পড়া একটি ভুয়া তথ্যকে সত্য মনে করে কোটি টাকা আয়ের আশায় ভারতের মধ্যপ্রদেশের ভোপালে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। অণ্ডকোষ বিক্রি করে ১ কোটি ২০ লাখ রুপি আয় করা সম্ভব—এমন গুজবের ভিত্তিতেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২০ বছর বয়সী জোহেব খান, ১৮ বছর বয়সী আমির কুরাইশিসহ তিন অপ্রাপ্তবয়স্ককে গ্রেপ্তার করেছে ভোপাল পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, বিবিএর দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জোহেব নিজেকে ভুয়া চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিতেন। সাদা অ্যাপ্রন পরে তিনি সহযোগীদের বোঝান, ১৫ থেকে ১৬ বছর বয়সী কোনো কিশোরের অণ্ডকোষ আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করে বিপুল অর্থ পাওয়া সম্ভব।

ভোপাল পুলিশের জোন-৩-এর ডেপুটি পুলিশ কমিশনার আয়ুষ গুপ্ত জানান, ইনস্টাগ্রামের একটি ভিডিও দেখার পর জোহেব নিজেই পরিকল্পনাটি করেন এবং অন্যদের কাছে ওই তথ্য ছড়িয়ে দেন।

নিহত কিশোরের নাম রেহান (১৭)। বাবা মারা যাওয়ার পর তার মা গণশৌচাগারে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। পরিবারকে সহায়তা করতে রেহান ইকবাল ময়দান ও মতি মসজিদ এলাকায় কলম ও কি-চেইন বিক্রি করত।

বিজ্ঞাপন

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৬ আগস্ট অন্য ছেলেদের সঙ্গে বিরোধ মীমাংসার কথা বলে এবং ১০০ রুপি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে রেহানকে ইকবাল ময়দান থেকে ঢোবিঘাটের নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ধারালো ছুরি ও ব্লেড দিয়ে তার ওপর হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

হত্যার পর জোহেবের নির্দেশনা অনুযায়ী রেহানের অণ্ডকোষ কেটে একটি পলিথিনের ব্যাগে রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তদন্তে আরও জানা যায়, ওই অঙ্গটি কার কাছে কোটি টাকায় বিক্রি করা হবে, সে বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না। কয়েক দিন ধরে সম্ভাব্য ক্রেতা খুঁজেও ব্যর্থ হওয়ার পর তারা বুঝতে পারে, পুরো দাবিটিই ছিল ভিত্তিহীন গুজব। পরে অঙ্গটি পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।

পুলিশ চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই দাবির কোনো বৈজ্ঞানিক বা চিকিৎসাগত ভিত্তি নেই। তদন্তে কোনো সংঘবদ্ধ মানব অঙ্গ পাচার চক্রের অস্তিত্বও পাওয়া যায়নি।

গত ১০ আগস্ট ছোট তালাবের কাছে ঢোবিঘাট এলাকা থেকে একটি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার পর এটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত শুরু হয়। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী মরদেহটি দাফন করা হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

পরে ১৫ আগস্ট নিখোঁজ ছেলের সন্ধানে এক নারী পুলিশের কাছে আসেন। মরদেহের হাতে থাকা একটি বিশেষ ট্যাটু দেখে তিনি সেটি তার ছেলে রেহানের বলে শনাক্ত করেন।

পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর রেহানের শেষ চলাফেরা ও পরিচিতদের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে। এখন ইনস্টাগ্রামে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর ভিডিওটির মূল উৎস এবং এর পেছনে অন্য কারও প্ররোচনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD