Logo

খামেনিকে শ্রদ্ধা জানাতে গ্র্যান্ড মোসাল্লায় লাখো মানুষের ঢল

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৪ জুলাই, ২০২৬, ১১:১২
খামেনিকে শ্রদ্ধা জানাতে গ্র্যান্ড মোসাল্লায় লাখো মানুষের ঢল
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতি সর্বসাধারণের আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু হয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) সকাল থেকে রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্স ও আশপাশের সড়কে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে সৃষ্টি হয়েছে জনসমুদ্র। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তসহ দেশের নানা অঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সমবেত হয়েছেন। মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি সামাল দিতে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সাধারণ মানুষের জন্য কমপ্লেক্সের প্রবেশদ্বার খুলে দেওয়া হয়।

দাফন-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিতে সকাল থেকেই তেহরানের বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনের বাইরে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই ভোর থেকেই স্টেশনের প্রবেশপথে অবস্থান নিয়ে গেট খোলার অপেক্ষা করেন, যাতে দ্রুত অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছাতে পারেন।

বিজ্ঞাপন

ইরানের সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ প্রকাশিত ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, কালো পোশাক পরিহিত অসংখ্য শোকাহত মানুষ বন্ধ মেট্রো স্টেশনের সামনে অপেক্ষা করছেন। তাদের অনেকেই হাতে খামেনির ছবি ও শোকের প্রতীক বহন করছিলেন।

এদিকে, রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তারা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাদের কান্নার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি—এমন দাবি করে ইরান। এরপর তাকে কেন্দ্র করে সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় দাফন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে, যা শুক্রবার তেহরানে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

বিজ্ঞাপন

তেহরানের গভর্নর মোহাম্মদ সাদেক মোতামাদিয়ান বলেন, রাষ্ট্রীয় এই শোকানুষ্ঠান ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, নির্ধারিত সময়ের আগে গ্র্যান্ড মোসাল্লার প্রবেশপথ খোলা হয়নি, যাতে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব হয়। তিনি সাধারণ মানুষকে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অনুষ্ঠানস্থলে আসার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রীয় এই আয়োজনে ইরানের শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, বিদেশি কূটনীতিক, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অতিথিরাও অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি।

বিজ্ঞাপন

সপ্তাহব্যাপী দাফন কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী কয়েক দিন ইরানের বিভিন্ন শহর এবং প্রতিবেশী ইরাকেও একাধিক স্মরণসভা, শোভাযাত্রা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

সূত্র: আল জাজিরা

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD