Logo

পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতায় বড় ধাক্কা

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৪ জুলাই, ২০২৬, ১৯:১৮
পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতায় বড় ধাক্কা
ছবি: সংগৃহীত

পুরুষের শারীরিক বিকাশ, প্রজননক্ষমতা এবং সামগ্রিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছেন গবেষকরা। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত প্রায় পাঁচ দশকে বিশ্বজুড়ে পুরুষদের শরীরে এই হরমোনের গড় মাত্রা অর্ধেকেরও বেশি কমে গেছে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে পুরুষদের প্রজননক্ষমতা বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে পারে। এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।

বিজ্ঞাপন

গবেষণার ফলাফল যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় মানব প্রজনন ও ভ্রূণবিদ্যা সংস্থার বার্ষিক সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭২ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে পুরুষদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের গড় মাত্রা প্রায় ৫৪ শতাংশ কমেছে। অর্থাৎ প্রতি বছর গড়ে ১ শতাংশেরও বেশি হারে এই হরমোনের পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে। গবেষকদের মতে, এটি কোনো সাময়িক পরিবর্তন বা পরিসংখ্যানগত ত্রুটি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি একটি বৈশ্বিক প্রবণতা।

বিশেষজ্ঞরা জানান, টেস্টোস্টেরন পুরুষের বয়ঃসন্ধিকালের স্বাভাবিক বিকাশ, পেশি গঠন, শুক্রাণু উৎপাদন, হাড়ের শক্তি বজায় রাখা এবং যৌন আকাঙ্ক্ষা স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এই হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়া শুধু প্রজননস্বাস্থ্যের জন্য নয়, সামগ্রিক শারীরিক সুস্থতার জন্যও উদ্বেগের বিষয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ইসরায়েলের হিব্রু ইউনিভার্সিটি-হাডাসা ব্রাউন স্কুল অব পাবলিক হেলথ অ্যান্ড কমিউনিটি মেডিসিনের অধ্যাপক হাগাই লেভিন বলেন, বিশ্বজুড়ে পুরুষদের প্রজননস্বাস্থ্য বর্তমানে এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি যতটা গুরুত্ব পাওয়ার কথা, ততটা পাচ্ছে না।

গবেষকদের মতে, অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের বিভিন্ন গৃহস্থালি পণ্যে থাকা হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করা রাসায়নিক পদার্থ টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত দূষণও এ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, একই গবেষক দল এর আগেও এক গবেষণায় বিশ্বজুড়ে পুরুষদের শুক্রাণুর সংখ্যা গত চার দশকে আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ার তথ্য প্রকাশ করেছিল। এবারের গবেষণার ফলাফল নিয়েও বিজ্ঞানী মহলে কিছু আলোচনা ও মতপার্থক্য থাকলেও অনেক আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ এটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচনা করছেন।

বিজ্ঞাপন

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের প্রজনন হরমোন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক চান্না জয়সেনা বলেন, পুরুষদের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যাওয়ার এই ধারাবাহিক প্রবণতাকে গুরুত্বসহকারে দেখা প্রয়োজন। তার মতে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পুরুষদের প্রজননস্বাস্থ্যের অবনতি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে এবং এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্বাস্থ্য ও প্রজননক্ষমতা রক্ষায় এখন থেকেই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, ওজন নিয়ন্ত্রণ, ডায়াবেটিস প্রতিরোধ এবং পরিবেশে থাকা ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শ কমানোর দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। তাদের মতে, এখনই সচেতনতা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এই সংকট আরও গভীর আকার ধারণ করতে পারে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD