Logo

অং সান সু চি কি বেঁচে আছেন? বাড়ছে রহস্য ও জল্পনা

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৪ জুলাই, ২০২৬, ১৬:০১
অং সান সু চি কি বেঁচে আছেন? বাড়ছে রহস্য ও জল্পনা
ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকারের হাতে বন্দি গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির অবস্থান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ ও জল্পনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তার কোনো খোঁজ না মেলায় আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—৮১ বছর বয়সী এই নোবেলজয়ী নেত্রী এখনও জীবিত আছেন, নাকি তার মৃত্যু হয়েছে?

বিজ্ঞাপন

পাঁচ বছর আগে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সু চির সরকারকে উৎখাত করার পর থেকেই তিনি বন্দি রয়েছেন। তবে গত কয়েক বছরে তার প্রকাশ্য উপস্থিতি বা নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য সামনে আসেনি।

সু চির ছেলে কিম আরিস গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের কাছে তার মায়ের ‘প্রুফ অব লাইফ’ বা জীবিত থাকার প্রমাণ প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে আসছেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

২০২২ সালের শেষ দিকে সু চিকে সর্বশেষ আনুষ্ঠানিকভাবে দেখা যায়। এরপর থেকে তার আইনজীবীদেরও সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হয়নি। সম্প্রতি সু চির পোষা কুকুর ‘তাইচিতো’ ইয়াঙ্গুনে মারা গেছে। ২০১০ সালে সু চি গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্তি পাওয়ার পর কিম আরিসই তাকে কুকুরটি উপহার দিয়েছিলেন।

দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে অহিংস আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে অং সান সু চি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৯১ সালে তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন।

২০১৫ সালে তার দল ক্ষমতায় এলেও রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের বিষয়ে তার অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। পরে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাকে আবারও ক্ষমতাচ্যুত করে কারাগারে পাঠানো হয়।

বিজ্ঞাপন

চলতি বছরের এপ্রিলে জান্তা সরকার দাবি করে, সু চিকে কারাগার থেকে গৃহবন্দি করা হয়েছে। তবে বিদেশি কূটনীতিকদের তার সঙ্গে সাক্ষাতের সব অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে জান্তা কর্তৃপক্ষ শুধু বলছে, তিনি ‘ভালো আছেন’।

মিয়ানমারের জান্তা নেতা সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং সম্প্রতি নিজেকে দেশের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও জাতিসংঘের বিশেষ দূত জুলি বিশপ তার সঙ্গে বৈঠকে সু চির প্রসঙ্গ তুললে তিনি বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখান বলে কূটনৈতিক সূত্রের দাবি।

এ অবস্থায় অনেক কূটনীতিকের আশঙ্কা, সু চি হয়তো আর জীবিত নেই অথবা অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছেন। তাদের মতে, এ কারণেই জান্তা সরকার তার জীবিত থাকার কোনো প্রমাণ প্রকাশ করছে না।

বিজ্ঞাপন

তবে লন্ডনের ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের মিয়ানমার বিশেষজ্ঞ মরগান মাইকেলস মনে করেন, সু চির মৃত্যু হলে তা দীর্ঘদিন গোপন রাখা সম্ভব নয়। তার মতে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই জান্তা সরকার তাকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রেখেছে।

মিয়ানমারের অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স (এএপিপি) জানিয়েছে, বর্তমানে দেশটিতে ১৪ হাজার ৫১৭ জন রাজনৈতিক বন্দি রয়েছেন। চলতি বছর চিকিৎসার অভাবে কারাগারে ৬০ জনের বেশি রাজনৈতিক বন্দির মৃত্যু হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিভিন্ন সূত্রের দাবি, সু চিও সাধারণ বন্দিদের মতো কঠিন পরিবেশে রয়েছেন। অন্য বন্দিরা সুবিধা না পাওয়ায় তিনি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে থাকতে রাজি হননি বলেও জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞদের মতে, সামরিক জান্তা সশস্ত্র প্রতিরোধের চেয়ে সু চির অহিংস আন্দোলনকে বেশি ভয় পায়। কারণ, তিনি মুক্তি পেলে বা তার উপস্থিতি নিশ্চিত হলে দেশজুড়ে আবারও গণআন্দোলন জোরদার হতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকেই তাকে জনসমক্ষে সম্পূর্ণ অদৃশ্য করে রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD